কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ মন্ত্রীর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর কেবল একটি প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, বরং এটি আগামীর বিশ্ব অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। শনিবার সাভারের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ কথা বলেন। সেখানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা ল্যাব’ উদ্বোধন এবং ‘এআই প্রজেক্ট কম্পিটিশন-২০২৬’ প্রতিযোগিতার সূচনা করেন।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার আধুনিক এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক এই গবেষণা ল্যাবগুলো ভবিষ্যতে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও প্রশাসনসহ দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব অনস্বীকার্য। তাই একটি উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে গবেষণা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির কোনো বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণ প্রজন্মকে দেশের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। ডিজিটাল রূপান্তরের শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে সরকার তৃণমূল পর্যায়ে এআই প্রশিক্ষণ ও স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী সক্ষমতার প্রশংসা করে ফকির মাহবুব আনাম জানান, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ১৪৫টি প্রকল্পের মধ্যে সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলোকে সরকারের স্টার্টআপ ফান্ডসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করা হবে। ইতিমধ্যে গবেষক দল ‘এআই প্রফেসর’, ‘এআই প্রক্টর’ ও ‘এআই রেজিস্ট্রার’-এর মতো প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান তৈরি করেছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মন্ত্রী ‘এআই প্রজেক্ট কম্পিটিশন-২০২৬’-এ অংশগ্রহণকারী ১৪৫টি প্রকল্পের মধ্য থেকে ছয়টি ক্যাটাগরিতে বিজয়ী ১২টি দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আর. কবীরসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত- আইসিটি মন্ত্রী
0%
0%
0%
0%