হিটলারের জন্মভিটা এখন থানা, নব্য নাৎসিদের তীর্থযাত্রা ঠেকাতে অস্ট্রিয়ার উদ্যোগ

জার্মানি সীমান্ত সংলগ্ন অস্ট্রিয়ার ব্রাউনু আম ইন শহরে নাৎসি স্বৈরশাসক অ্যাডলফ হিটলারের জন্মভিটাটি অবশেষে একটি পুলিশ স্টেশনে রূপান্তরিত করা হয়েছে। নব্য নাৎসিদের তীর্থস্থান হিসেবে এর ব্যবহারের অপচেষ্টা রুখতেই অস্ট্রিয়া সরকার এই কঠোর ও প্রতীকী পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৭ সালে সরকার ভবনটি অধিগ্রহণের পর ২০১৯ সালে সংস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করে, যার পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ মিলিয়ন ইউরো বা ২২.৮ মিলিয়ন ডলার।

বিজ্ঞাপন

বুধবার আয়োজিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গেরহার্ড কার্নার এবং ব্রাউনুর মেয়র জোহানেস ওয়েডবাচার। মেয়র ওয়েডবাচার আশা প্রকাশ করে বলেন, এই রূপান্তরের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সম্প্রদায় তাদের ইতিহাসের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে এবং নিজেদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবনটির নতুন এই ব্যবহার বিতর্ক নিরসনে সহায়ক হবে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশান্তি ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রধান স্টেফান এমলজোকের ভাষ্যমতে, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই ছিল হিটলারের সঙ্গে ভবনটির সংযোগ ছিন্ন করে এর তথাকথিত রহস্যময় ভাবমূর্তি মুছে ফেলা। নাৎসি আমলে এই ভবনটিকে হিটলারের জন্মস্থান হিসেবে মহিমান্বিত করে শিল্প জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে নব্য নাৎসিদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়। নতুন এই উদ্যোগের ফলে ভবনটি এখন স্থানীয় ও জেলা পুলিশের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

তবে এই রূপান্তর নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। মাউথহাউসেন কমিটি এবং বর্ণবাদ বিরোধী নেটওয়ার্কের সদস্য রবার্ট ইটার অভিযোগ করেছেন যে, ভবনের রূপান্তর ইতিহাসের নির্মম সত্যকে মুছে ফেলতে পারবে না। তার মতে, বিশ্ব ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস খুনি হিটলারের জন্মস্থানের গৌরব বা কুখ্যাতি পুলিশের উপস্থিতি দিয়ে সম্পূর্ণ দূর করা সম্ভব নয় এবং এটি নব্য নাৎসিদের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ করবে না বলেও তিনি আশঙ্কা করছেন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় পর্যায়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। ব্রাউনুর বাসিন্দাদের অনেকে মনে করেন, ঐতিহাসিক এই ভবনে মানবিক কোনো দাতব্য সংস্থা থাকা অধিক সমীচীন ছিল। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে জনগণের অবাধ প্রবেশাধিকার থাকে, যা এই ভবনের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারতো। সবকিছুর পরও ভবনের সামনে থাকা মাউথহাউসেন কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের পাথর—যাতে ‘ফ্যাসিবাদ আর নয়’ খোদাই করা রয়েছে—তা স্বমহিমায় সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%