ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ব্রিটিশ সরকারের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল আপিল আদালত

যুক্তরাজ্যের আপিল আদালত এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে ফিলিস্তিনপন্থী প্রতিবাদী সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-কে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে চিহ্নিত করার সরকারি সিদ্ধান্তকে বৈধ বলে ঘোষণা করেছে। গত বছর ব্রিটিশ সরকারের নেওয়া এই বিতর্কিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে করা চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দিয়ে পাঁচ বিচারকের বিশেষ বেঞ্চ জানিয়েছে, সংগঠনটির কর্মকাণ্ড কেবল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেয়েও বেশি কিছু, যা সরাসরি সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেয়।

বিজ্ঞাপন

ছয় বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই গোষ্ঠীটি ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ ও বর্ণবাদী নীতির বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে চলমান সরব প্রতিবাদী আন্দোলনের একটি অংশ হিসেবে পরিচিত। এলবিট সিস্টেমস, লিওনার্দো, থ্যালেস এবং টেলেডাইনের মতো অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর বিঘ্নসৃষ্টিকারী কৌশল প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ পুলিশের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েক মিলিয়ন পাউন্ডের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আদালতের এই রায়ের পর লন্ডনে আদালতের বাইরে জড়ো হওয়া প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থকদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। সংগঠনটি নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃপক্ষ নতুন এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে জানিয়েছে, তারা এই সংগঠনের সমর্থনে কোনো ধরনের প্রতিবাদী কর্মসূচি সহ্য করবে না এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার অব্যাহত রাখবে।

উল্লেখ্য, এর আগে উচ্চ আদালত এই নিষেধাজ্ঞাটিকে আইনবহির্ভূত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে রায় দিয়েছিল। তবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ওই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে আপিল করেন। আদালতের সোমবারের রায়ে বলা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার আওতায় এবং রাষ্ট্রীয় নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, আদালতের এই কঠোর রায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরি। তিনি জানিয়েছেন, তারা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন এবং প্রয়োজনে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের দ্বারস্থ হবেন। আম্মোরির মতে, এটি আধুনিক ব্রিটিশ ইতিহাসে বাকস্বাধীনতা ও প্রতিবাদের অধিকারের ওপর অন্যতম চরম আঘাত।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সতর্ক করে বলেছে, প্রতিবাদী কর্মসূচিকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার এই প্রবণতা যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সিএজি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলোও এটিকে ভিন্নমত দমনের একটি কর্তৃত্ববাদী হাতিয়ার হিসেবে অভিহিত করেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%