Advertisement

আশি তম স্বাধীনতা দিবসে মণীষীদের বাণীতে দেশপ্রেমের আবেশ

ভারতের আশি তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতিতে মুখর পুরো দেশ। ২০২৬ সালের ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই দেশজুড়ে শুরু হবে এই বিশেষ দিনটির বর্ণাঢ্য আয়োজন। পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস আর দেশের প্রতি গভীর অনুরাগকে স্মরণ করে প্রতিটি নাগরিক নতুন করে দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হতে চাইছেন। বিশেষ এই দিনে প্রিয়জনদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি মণীষীদের কালজয়ী উক্তিগুলো আজও দেশের মানুষের চলার পথের পাথেয় হয়ে রয়েছে।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বিখ্যাত সেই অগ্নিঝরা উক্তি, “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো”, আজও ভারতবাসীর হৃদয়ে সাহসের সঞ্চার করে। একইভাবে, অন্যায় ও অসত্যের সঙ্গে আপোষ না করার যে বার্তা তিনি দিয়েছিলেন, তা বর্তমান প্রজন্মের কাছেও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচিত। এই স্বাধীনতা দিবসে ভারতবাসীর সামগ্রিক অগ্রযাত্রার পথে নেতাজির আদর্শই হোক প্রেরণার প্রধান উৎস।

বিজ্ঞাপন

জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর দর্শনের কথা উল্লেখ করে অনেকেই শুভেচ্ছা বার্তায় স্মরণ করছেন তার সেই চিরন্তন বাণী, “এমনভাবে বাঁচো যেন তুমি আগামীকালই মারা যাবে, আর এমনভাবে শেখো যেন তুমি চিরকাল বাঁচবে।” অন্যদিকে, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর কবিতা থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে দেশপ্রেমিকরা উচ্চারণ করছেন, “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির”—এই পঙক্তিগুলো যেন ভারতবাসীর আত্মমর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে। কবিগুরুর সেই সুর, “ও আমার দেশের মাটি, তোমার ‘পরে ঠেকাই মাথা”, প্রতিটি ভারতবাসীর কণ্ঠে আজ ধ্বনিত হচ্ছে পরম শ্রদ্ধায়।

শহিদ ভগৎ সিংয়ের সেই অমোঘ বার্তা, “ব্যক্তিকে হত্যা করা সহজ, কিন্তু আদর্শকে হত্যা করা যায় না”, বিপ্লবের চেতনাকে প্রতিনিয়ত শাণিত করে। বালগঙ্গাধর তিলকের “স্বরাজ আমার জন্মগত অধিকার”, চন্দ্রশেখর আজাদের “আজাদই আছি, আজাদই থাকব” কিংবা স্বামী বিবেকানন্দের “ভারতবাসী আমার ভাই”—এই উক্তিগুলো স্বাধীনতা দিবসের সকালে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও আত্মগৌরবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সকল দেশের রাণী জন্মভূমিকে নতমস্তকে প্রণাম জানিয়েই ভারতবাসী আজ আশি তম স্বাধীনতা দিবসের উৎসব পালন করছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%