জাতীয় পতাকার অশোক চক্র ও ২৪ অরের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা জীবনদর্শন

ভারতের জাতীয় পতাকার কেন্দ্রে অবস্থিত গাঢ় নীল রঙের অশোক চক্র কেবল একটি নকশা নয়, বরং এটি দেশ ও জাতির অগ্রগতির এক শাশ্বত প্রতীক। ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই জাতীয় পতাকার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির সময় মৌর্য সম্রাট অশোকের সারনাথের সিংহচতুর্মুখ স্তম্ভ থেকে এই চক্রটি গ্রহণ করা হয়। পতাকার গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রঙের মাঝে অবস্থিত এই ২৪টি অরবিশিষ্ট চক্রটি আজ ভারতের অখণ্ডতা ও নৈতিক মূল্যবোধের পরিচয় বহন করে।
অশোক চক্রকে ভারতীয় দর্শনশাস্ত্রে ধর্মচক্র হিসেবে অভিহিত করা হয়। কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতার পর সম্রাট অশোক যে অহিংসা ও বৌদ্ধ দর্শনের পথ বেছে নিয়েছিলেন, সেই শান্তির বার্তা প্রচারের উদ্দেশ্যেই এই চক্রের উদ্ভব। মূলত শান্তি, ন্যায়বিচার এবং সত্যের পথে অবিচল থাকার অঙ্গীকার হিসেবেই সম্রাট অশোক সারা দেশে এই স্তম্ভ ও চক্রের প্রচলন করেছিলেন, যা আজও ভারত সরকারের রাষ্ট্রীয় প্রতীক হিসেবে মর্যাদার সঙ্গে বিদ্যমান।
চক্রের ভেতরের ২৪টি শলাকা বা অর দিনের ২৪ ঘণ্টার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি দেশবাসীকে বার্তা দেয় যে, ভারত একটি গতিশীল রাষ্ট্র যা কখনো থেমে থাকে না। প্রতিটি অর মানবধর্ম ও প্রগতির দিকনির্দেশনা প্রদান করে, যেখানে ন্যায় ও ধর্মের চাকা দিন-রাত অবিরাম ঘুরে দেশকে বিশ্বমঞ্চে উন্নতির শীর্ষে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ভারতের জাতীয় পতাকার এই অংশটি নিছক কোনো ঐতিহাসিক নিদর্শন নয়, বরং এটি একটি গভীর জীবনদর্শন। এই ২৪টি অরের মূলনীতি অনুসরণ করে একটি শক্তিশালী, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বর্তমান ভারত সরকার। মূলত সততা ও উন্নয়নের এই যাত্রাপথই অশোক চক্রের প্রকৃত তাৎপর্য।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
