সিলেট ট্রিপল মার্ডার মামলার এজাহারে ভূমি বিরোধের জেরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ

সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে বৃদ্ধ দম্পতি ও গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন পর অবশেষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় নিহত এম এ সাত্তারের মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে এই লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এর আগে বাবুল মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হলেও এজাহারে তার নাম উল্লেখ না থাকায় স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১২ আগস্ট রায়নগরের ১১১ নম্বর বাসা থেকে ৮২ বছর বয়সী এম এ সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের পরপরই সন্দেহভাজন হিসেবে রং মিস্ত্রি বাবুল মিয়াকে আটক করে পুলিশ ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠায়।
মামলার এজাহারে নিহত এম এ সাত্তারের মেয়ে দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বাবার সাথে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ ও দলিল নিয়ে কয়েকজনের বিবাদ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ জুলাই এবং ৩০ জুলাই আদালতে শুনানির সময় এম এ সাত্তার ও তাঁর আইনজীবীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই বিরোধের জের ধরেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনিদের মাধ্যমে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বাদী আরও জানান, গত ১২ আগস্ট সকাল নয়টার দিকে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে তিনজনকে হত্যা করে। এসময় বাসা থেকে মামলা ও ভূমি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, জিডির কপি ও দলিলপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দেশের বাইরে থাকায় এবং দাফন-কাফন শেষে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করতে কিছুটা সময় লাগায় মামলা দায়ের করতে দেরি হয়েছে বলে এজাহারে জানানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং ভূমি বিরোধের সাথে ঘটনার যোগসূত্র আছে কি না তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এজাহারে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে সতর্কতার সাথে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
