Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সংস্থাগুলোতে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কার্যক্রম সংকুচিত হওয়ার অভিযোগ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের নাগরিক অধিকার সুরক্ষার ভূমিকা থেকে সরে আসার প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ১১২ পৃষ্ঠার এক বিশদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে বৈষম্যবিরোধী সংস্থাগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মী ছাঁটাই এবং নীতিনির্ধারণী পরিবর্তনের ফলে নাগরিক অধিকার রক্ষার কাঠামো অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনে বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশন, শিক্ষা বিভাগের অফিস ফর সিভিল রাইটস, আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের ফেয়ার হাউজিং অফিস এবং ইকুয়াল এমপ্লয়মেন্ট অপরচুনিটি কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গবেষক ট্রে ওয়াক মন্তব্য করেছেন, প্রশাসন সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে যে ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ প্রতিকার পেত, তা ক্রমশ ধ্বংস করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ‘ডাইভার্সিটি, ইক্যুইটি অ্যান্ড ইনক্লুশন’ বা ডিইআই সংক্রান্ত নীতিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রশাসন বেশ কিছু চলমান মামলা স্থগিত করেছে, যার মধ্যে যৌন হয়রানি ও ট্রান্সজেন্ডার অধিকার রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও রয়েছে। একই সময়ে বৈষম্যবিরোধী তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে প্রশাসন নাইকির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উল্টো শ্বেতাঙ্গ কর্মীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তদন্তের দিকে মনোনিবেশ করেছে।

শুধু নীতিগত পরিবর্তনই নয়, দক্ষ জনবলের সংকটও সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়েছে। বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশনে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ৩৬৫ জন আইনজীবী কর্মরত থাকলেও বছরের শেষ নাগাদ তাঁদের তিন-চতুর্থাংশই চাকরি ছেড়ে চলে যান। বিচার বিভাগ অবশ্য দাবি করেছে, তারা সব আমেরিকানের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে ১০০ জন নতুন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার অধিকার ও আবাসন খাতের চিত্রটিও উদ্বেগজনক। শিক্ষা বিভাগের অফিস ফর সিভিল রাইটস ২০২৫ সালের মে থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের কাছে আসা প্রায় ১০ হাজার অভিযোগের ৯০ শতাংশই খারিজ করে দিয়েছে। এছাড়া ফেয়ার হাউজিং অফিসে জনবল ৩১ জন থেকে কমে ১১ জনে নেমে এসেছে এবং এর মাধ্যমে বিচার বিভাগে পাঠানো ১১৫টি সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের নথিপত্র বাতিল করা হয়েছে।

ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের স্প্রিংফিল্ডের একটি ঘটনায় শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীদের দ্বারা কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনলাইনে কথিত ‘ক্রীতদাস নিলামের’ মতো ঘৃণ্য ঘটনার তদন্তও শেষ পর্যন্ত আর এগোয়নি। মানবাধিকার সংস্থাটির মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তার ফলে বৈষম্যের শিকার সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক গোষ্ঠীগুলো এখন কোনো আইনি সুরক্ষাই পাচ্ছে না, যা মার্কিন সংবিধানে বর্ণিত সমঅধিকার ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%