Advertisement

হোয়াইট হাউসে বলরুম নির্মাণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ট্রাম্প প্রশাসন

হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ে বিতর্কিত বলরুম নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রায় ৪০ কোটি ডলার ব্যয়ের এই প্রকল্পটির ওপর নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের আবেদন জানিয়েছে বিচার বিভাগ। সরকারি কৌঁসুলিদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সামরিক কমপ্লেক্সের অংশ হিসেবে এই সুরক্ষিত বলরুমটি নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।

এর আগে ডিস্ট্রিক্ট অফ কলম্বিয়া সার্কিটের আপিল আদালত এক আদেশে জানায়, কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়া এই নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা যাবে না। আদালতের স্পষ্ট অভিমত ছিল, একটি বিশাল আকারের বলরুম নির্মাণের সিদ্ধান্তটি আইনপ্রণেতাদের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়, যা কোনোভাবেই নির্বাহী বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতার অংশ হতে পারে না। আপিল আদালতের এই রায় ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক রিচার্ড লিওনের পূর্ববর্তী একটি আদেশকেই বহাল রাখে।

বিজ্ঞাপন

ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশনের দায়ের করা এক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়। গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙে প্রায় ৮ হাজার ৩৬০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে এই বিশাল স্থাপনার কাজ শুরু করলে সংস্থাটি আদালতের দ্বারস্থ হয়। সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্প নিজস্ব পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী পুনর্গঠনের যে উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ নিয়েছেন, বলরুম নির্মাণ তারই একটি অংশ।

ট্রাম্প এবং তার মিত্ররা বারবার দাবি করে আসছেন, সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি গুপ্তহত্যার প্রচেষ্টার পর বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই বলরুম অপরিহার্য। তাদের ভাষ্যমতে, এই স্থাপনায় বোমা শেল্টার, আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা থাকবে। তবে ট্রাম্পের এই যুক্তি উড়িয়ে দিয়ে সমালোচকরা বলছেন, প্রকল্পটির ব্যয় নির্বাহ নিয়ে শুরু থেকেই ধোঁয়াশা রয়েছে। শুরুতে এটি ব্যক্তিগত অনুদানে করার কথা থাকলেও বর্তমানে এর পুরো আর্থিক দায়ভার মার্কিন করদাতাদের ওপর এসে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

আপিল আদালতের রায়কে ‘অন্যায়’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন তা সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছে। ২১ আগস্টের মধ্যে নির্মাণকাজ থামানোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও, সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের সুযোগ করে দিতে আদালতের আগের নিষেধাজ্ঞাটি সাময়িকভাবে ১৪ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল। এখন সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে হোয়াইট হাউসের এই বিতর্কিত স্থাপত্য প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%