মার্কিন শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর, ওয়াশিংটন-তেল আবিব সম্পর্কে টানাপোড়েন

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রস্তাবিত ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাত নিরসনে উত্থাপিত এই রূপরেখার আওতায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছিল। তবে নেতানিয়াহুর এই অনমনীয় অবস্থান ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে।
সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। নেতানিয়াহুর এই প্রত্যাখানের পরেও ট্রাম্প দুই দেশের সম্পর্কের দৃঢ়তার ওপরই জোর দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্ত মূলত তাঁর মন্ত্রিসভার কট্টরপন্থী সদস্যদের সন্তুষ্ট করার কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে, কারণ ইসরায়েলের ডানপন্থী ভোটারদের কাছে এই শান্তি পরিকল্পনাটি খুব একটা গ্রহণযোগ্য নয়।
রবিবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হামাস প্রকৃত অর্থে নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী কোনোভাবেই গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। তিনি আরও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন, তিনি যতদিন ক্ষমতায় আছেন, ততদিন কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ নেই। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের বিপরীতে নিজের কঠোর অবস্থান আবারও সামনে নিয়ে এলেন।
এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’ গাজা শান্তি পরিকল্পনাটি এখনও কার্যকর রয়েছে বলে দাবি করেছে। সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই রূপরেখা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াটি মাঠপর্যায়ের যাচাই-বাছাইয়ের ওপর নির্ভরশীল। ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও, নিশ্চিত না হয়ে কোনো অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দেশটিকে চাপ দেওয়া হচ্ছে না বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে।
আল জাজিরার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে এক ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কূটনৈতিক খেলায় লিপ্ত হয়েছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ডেমোক্রেটিক পার্টির একাংশ ক্রমশ ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায়, ইসরায়েলের এই কঠোর নীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটিকে আরও একা করে ফেলতে পারে। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কিংবা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
