AdvertisementAdvertisement

দুর্নীতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গে জিরো টলারেন্স নীতি বিজেপির কড়া বার্তা সুনীল বনসলের

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেও তোলাবাজি, দুর্নীতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের মতো গুরুতর অভিযোগে বিদ্ধ ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি। দলের অন্দরেই একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করতে বৃহস্পতিবার সল্টলেকে অবস্থিত দলের রাজ্য দফতরে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল।

রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দলবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে আসছে রাজ্য নেতৃত্ব। সেই অবস্থানকে আরও সংহত করতে এদিন জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে সুনীল বনসল স্পষ্ট করে দেন যে, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। তোলাবাজি, সিন্ডিকেট কিংবা দুর্নীতির সঙ্গে কোনো নেতার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্র মারফত জানা গেছে, বুথ থেকে শুরু করে জেলা স্তর পর্যন্ত শৃঙ্খলাভঙ্গের অসংখ্য অভিযোগ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে জমা পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকজন কর্মী ও পদাধিকারীকে বহিষ্কার বা সাসপেন্ড করা হলেও মূল সমস্যার সুরাহা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে জেলাভিত্তিক বিশেষ বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সুনীল বনসল। প্রথম দফায় কলকাতা উত্তর শহরতলি ও বারাসত সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা সভায় বসেছেন তিনি।

বৈঠকে সুনীল বনসল কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেন, ভুল একবার হতে পারে, কিন্তু বারবার একই ভুল সহ্য করা হবে না। দলবিরোধী বা নীতিবিরুদ্ধ কাজে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন। সংগঠনের শৃঙ্খলা ফেরাতে বিধায়ক ও জেলা সভাপতিদের একক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে যৌথ মতামতের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে এবং সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কোর কমিটিকে ছোট ও কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দলের ভেতরে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট-রাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তৃণমূল জমানায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত কোনো দুষ্কৃতীকে বিজেপিতে জায়গা দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে বিধায়কদের বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সংগঠনকে পরিচ্ছন্ন ও ঐক্যবদ্ধ রাখাই এখন বিজেপির মূল লক্ষ্য, যার ফলে দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে কোনো আপস না করার কঠোর বার্তাই দিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%