AdvertisementAdvertisement

ইয়েমেনে ভয়াবহ সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়ছে হুথি হামলায় সরকারি বাহিনীর ৩০ সদস্য নিহত

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর ওপর গত বৃহস্পতিবার হুথি বিদ্রোহীদের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০ জন সেনা নিহত হয়েছেন। ইয়েমেনের হাদরামাউত এবং মারিব প্রদেশে সরকারি সামরিক ক্যাম্প ও সেনা সমাবেশ লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন সেনা। দীর্ঘ কয়েক বছর অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকার পর এটিই দেশটিতে চালানো সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা, যা ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতকে ফের পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেছেন, তাদের এই অভিযানে কয়েকশ সেনা নিহত হয়েছেন এবং সরকারি বাহিনীর অনেকগুলো ক্যাম্প ও অস্ত্রাগার ধ্বংস হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সৌদি আরবের কথিত সামরিক তৎপরতা মোকাবিলার অংশ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে সরকারি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য শেখ উসমান মাজালি হুথিদের ‘সন্ত্রাসী মিলিশিয়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের পতনের আহ্বান জানিয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের সংকট এখন আর আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সংঘাতের ক্ষেত্রটি পুনরায় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আহমেদ নাজি সতর্ক করে বলেছেন, সীমান্ত পেরিয়ে সরকারি বাহিনীর ওপর হুথিদের এমন আক্রমণাত্মক বিস্তৃতি স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে যে, দেশটিতে সর্বাত্মক যুদ্ধের ঝুঁকি আর কল্পনাপ্রসূত নয়। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে, শান্তি আলোচনার চেয়ে সংঘাতের পথই এখন উভয় পক্ষের অগ্রাধিকার।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

মারিব ও হাদরামাউতের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ যুদ্ধের নতুন মোড় নির্দেশ করছে। সানা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আদেল দাশেলার ভাষ্যমতে, মারিবের তেল ও গ্যাস সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলো দখলই এখন হুথিদের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন, যদি নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা আগের সব সংঘাতের চেয়ে বহুগুণ ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইয়েমেনে সংঘাত অনেকটাই স্তিমিত ছিল। কিন্তু সেই যুদ্ধবিরতি এখন অস্তিত্বহীন হওয়ার পথে। স্থানীয় রাজনৈতিক ভাষ্যকার সাদ্দাম আল-হুরাইবির মতে, বিগত কয়েক বছরের শান্তি আলোচনার সময়টিকে হুথিরা অস্ত্রশস্ত্র মজুত করতে ব্যয় করেছে, যার বহিঃপ্রকাশ এখন সরাসরি যুদ্ধ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ এখন নতুন এক অনিশ্চয়তা ও চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%