AdvertisementAdvertisement

বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের নির্দেশ নীতিনির্ধারকদের

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করা এবং আকাশপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির পুনর্গঠন পরবর্তী প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তরে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সহসভাপতি ও প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

সভার শুরুতে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) আসন্ন অডিট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, এই অডিটের প্রতিবেদনের ওপর দেশের ভাবমূর্তি নির্ভর করছে, তাই আইকাওর মানদণ্ড অনুযায়ী সব ধরনের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। নিরাপত্তা প্রোটোকলের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় না দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ভিআইপি বা সিআইপি নির্বিশেষে বিমানবন্দরে সবার জন্য একই নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রযোজ্য থাকবে এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন বিশেষত প্রবাসী কর্মীদের ভোগান্তি কমাতে সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রযুক্তি আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, আকাশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুতই বিমানবন্দরে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপন করা হবে। তিনি নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত আধুনিক স্ক্যানার ও সরঞ্জাম পর্যাপ্ত মজুত রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেন, আইনের ব্যত্যয় ঘটালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে। দীর্ঘ তিন বছর বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই সভার কার্যকারিতা বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকির ওপরও তিনি জোর দেন।

সভার আলোচনায় জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেমের পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। বিমানবন্দরে বিদ্যমান অরাজকতা নিরসনে পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার সদস্যদের সমন্বিত অভিযানের ওপরও জোর দেওয়া হয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পরিশেষে বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অনাকাঙ্ক্ষিত লোকসমাগম এবং ভিক্ষুকের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটকে অধিকতর সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা সুসংহত করতে ভবিষ্যতে আরও কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘটে।

0%
0%
0%
0%