AdvertisementAdvertisement

দুই দশকের অপেক্ষার অবসান ডারউইনে প্রথমবার লাল বলের লড়াইয়ে মুশফিকের মিশন শুরু

দুই দশকের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অনেক প্রাপ্তি থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ অধরাই ছিল মুশফিকুর রহিমের। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ডারউইনের ডিএক্সসি অ্যারেনায় পা রাখলেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের দীর্ঘ দুই দশকের টেস্ট খরা কাটাতে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। আগামী ১৩ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ঐতিহাসিক সিরিজের প্রথম টেস্টের আগে মাঠের অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েছেন মুশফিক ও তার সতীর্থরা।

বাংলাদেশ দলের প্রথম বহরের সদস্যরা ডারউইনে পৌঁছালেও লিটন দাসসহ বাকিরা দ্রুতই দলের সঙ্গে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই চ্যালেঞ্জিং সিরিজের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন টাইগাররা। দলের অন্য সবার কাছে অস্ট্রেলিয়া সফর রোমাঞ্চের হলেও মুশফিকের কাছে এটি আবেগের এক অনন্য সংমিশ্রণ। বাংলাদেশের ক্রিকেটের তথাকথিত ‘ফ্যাব ফাইভ’-এর একমাত্র সদস্য হিসেবে তিনি এখনো নিবেদিতপ্রাণ হয়ে মাঠের লড়াইয়ে টিকে আছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সমসাময়িক ক্রিকেটারদের পথচলা বদলেছে বহুমাত্রায়। সাকিব আল হাসান ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকলেও রাজনৈতিক পরিচয়েই এখন বেশি আলোচিত। মাশরাফি বিন মুর্তজা রাজনীতিতে থিতু হওয়ার পর জনজীবন থেকে অনেকটাই আড়ালে। তামিম ইকবাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কোচিংয়ের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের ভূমিকা গুছিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু মুশফিকুর রহিম নিজেকে কেবল ক্রিকেটের অন্দরেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

৩৯ বছর বয়সী মুশফিক বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ১০০টির বেশি টেস্ট খেলার অনন্য নজির গড়েছেন। দীর্ঘ ২১ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পাওয়ায় তিনি দারুণ রোমাঞ্চিত। ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক মুশফিক বিশ্বাস করেছিলেন, অজিদের মাটিতে খেলার সুযোগ হয়তো দ্রুতই আসবে। কিন্তু সেই সুযোগ পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় এক দশক।

সিরিজের প্রস্তুতির জন্য মুশফিক নিয়েছেন বিশেষ পরিকল্পনা। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন ও মাঠের চরিত্র বিবেচনায় রেখে তিনি নিজের ব্যাটের ওজনে পরিবর্তন এনেছেন, যাতে উইকেটের চারদিকে শট খেলা সহজ হয়। প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো বোলারদের ইনসুইং সামলাতে নেটে দীর্ঘক্ষণ কাজ করেছেন তিনি। সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক হাবিবুল বাশারের মতে, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের উপযুক্ত পুরস্কারই পাচ্ছেন মুশফিক। এটি সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তার শেষ টেস্ট হতে যাচ্ছে, তাই নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে এই সিরিজকে রাঙাতে বদ্ধপরিকর তিনি।

0%
0%
0%
0%