কলম্বিয়ার নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট পেত্রোর রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত

কলম্বিয়ার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো জুন মাসে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে পুনরায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। বোগোতায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বামপন্থী এই নেতা দাবি করেন, নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর পর হাজার হাজার ব্যালট শিট বা ভোটের হিসাব পরিবর্তন করা হয়েছে। নির্বাচনে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ এবং তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব ছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তবে কলম্বিয়ার নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলগুলো পেত্রোর এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, রক্ষণশীল প্রার্থী আবেলিয়ার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইভান সেপেদাকে প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। আগামী শুক্রবার কংগ্রেসের সামনে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে এসপ্রিয়েলার।
সংবিধান অনুযায়ী দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচন করার সুযোগ না থাকায় ক্ষমতার পালাবদলে পেত্রোর তেমন কোনো আইনি বাধা দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তবুও তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংকট হিসেবে আখ্যায়িত করে নতুন প্রেসিডেন্টকে অবৈধ বলে মন্তব্য করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বিদায়ী প্রেসিডেন্টের এমন অসংলগ্ন ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাশাপাশি কলম্বিয়ার রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষ সময়ে এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে পেত্রোর সম্পর্ক চরম তিক্ততায় রূপ নিয়েছিল। ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে মাদক পাচারকারী হিসেবে অভিহিত করা এবং আর্থিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণার বিপরীতে পেত্রো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। এমনকি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ঘটনার পর ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের ইঙ্গিতে কলম্বিয়ার অস্থিরতা নতুন মাত্রা পায়।
এরই মধ্যে মার্কিন কৌঁসুলিরা ২০২২ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় মাদক পাচারকারীদের সাথে পেত্রোর সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার পর গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে পেত্রো রাজপথে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। গ্রামীণ এলাকায় ‘লিবারেশন গার্ড’ গঠনের তার আহ্বানকে ঘিরে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, তার এই উসকানিমূলক বক্তব্য বেসামরিক নাগরিকদের অস্ত্র হাতে তুলে নিতে উৎসাহিত করতে পারে, যা দেশটিতে বিদ্যমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
