AdvertisementAdvertisement

নিউজিল্যান্ডের ডিলাইনি হল ডিটেনশন সেন্টারে আট মাসে দ্বিতীয় বন্দির মৃত্যু কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও বন্ধের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির ডেলেনি হল ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে গত আট মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার এক বন্দির মৃত্যু হয়েছে। ৪১ বছর বয়সী সালভাদোরান নাগরিক এডউইন লোপেজ-কর্নেজো গত শনিবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিউয়ার্কের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার দিন ডেলেনি হলের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিইও গ্রুপের কর্মীরা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন এবং লোপেজ-কর্নেজোকে হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন। তবে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি। আইসিইর নথিপত্র অনুযায়ী, ২০০৬ সালে প্রথমবার অননুমোদিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তাকে আটক ও নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি আবারও দেশটিতে ফিরে আসেন এবং চলতি বছরের জুন মাসে প্লেইনফিল্ড থেকে তাকে আটক করে ওই ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পরিবারের ভাষ্যমতে, এই ব্যক্তির একটি ১২ বছর বয়সী কন্যা সন্তান রয়েছে। এদিকে, তার মৃত্যুতে শোক ও প্রতিবাদে সোমবার ডেলেনি হলের সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। এর আগে গত ডিসেম্বরে জিন উইলসন ব্রুটাস নামক একই বয়সী আরেক বন্দি এই কেন্দ্রে জরুরি স্বাস্থ্য সংকটে মারা যান। পরপর দুটি মৃত্যুর ঘটনায় কেন্দ্রটির নিরাপত্তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নিউয়ার্কের মেয়র রাস বারাকা এই ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এক বছরের কম সময়ের ব্যবধানে আরেকটি পরিবার তাদের স্বজনকে কাস্টডিতে হারিয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এদিকে নিউজার্সির প্রতিনিধি মিকি শেরিল ডেলেনি হল বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অমানবিক অবস্থার কারণেই বারবার এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

আইসিই অবশ্য দাবি করেছে, বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে এবং আটক হওয়ার পরপরই প্রাথমিক মেডিকেল স্ক্রিনিং সম্পন্ন করা হয়। তবে প্রতিনিধি রব মেনেনডেজ আইসিই এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বন্দিশালায় চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে যে অভিযোগ বারবার উঠছে, তা এড়ানো সম্ভব নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে অভিবাসন আটক কেন্দ্র সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে গত বছর ডেলেনি হল পুনরায় চালু করা হয়েছিল, যা এখন প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%