যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের কর্ম অনুমতি বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তে আদালতের স্থগিতাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর নীতিমালা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। এই আদেশের ফলে এল সালভাদর, সুদান এবং ইউক্রেনের হাজার হাজার নাগরিকের কর্মসংস্থানের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট আপাতত বাতিল হচ্ছে না। গত বুধবার থেকে নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও আদালতের হস্তক্ষেপে তা আপাতত থমকে গেল।
ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ নাথানিয়েল গোর্টন মঙ্গলবার এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদান করেন। অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নের দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে বিচারক এই পর্যবেক্ষণ দেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া নতুন এই পদক্ষেপে বাদীদের অপূরণীয় ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে এবং আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মামলাটির বাদীপক্ষের আইনজীবী সংগঠন ‘ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ড’-এর তথ্য অনুযায়ী, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস-এর নতুন নীতিমালাগুলো আইন ও জনমতের তোয়াক্কা না করেই প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে আশ্রয়ের আবেদনকারীদের ওপর নতুন বার্ষিক ফি আরোপ এবং ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়াকরণের দীর্ঘদিনের পুরনো নিয়ম বাতিলের সিদ্ধান্তটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতে দায়ের করা চ্যালেঞ্জে বলা হয়েছে, এসব পরিবর্তনের ফলে অনেক পরিবার তাদের জীবিকা নির্বাহের বৈধ পথ হারাতেন।
এই আদেশের ফলে এল সালভাদর, সুদান ও ইউক্রেনের যে সব নাগরিক টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করছেন, তারা আইনি লড়াই চলাকালীন তাদের কর্মসংস্থান ধরে রাখতে পারবেন। যদিও নতুন ধার্য করা ফি আদায় কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেননি বিচারক, তবে ফি দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে কারো আবেদন বাতিল বা কর্মসংস্থানের অনুমতি কেড়ে নেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হলো টিপিএস সুবিধা সংকুচিত করা। এর অংশ হিসেবেই গত জুলাই মাসে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে পাশ হওয়া ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর আওতায় নতুন এই কঠোর নিয়মগুলো যুক্ত করা হয়েছিল। এর আগেও গত মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট হাইতি ও সিরিয়ার অভিবাসীদের সুরক্ষা বাতিলের ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষেই রায় দিয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আদালতের এই সর্বশেষ আদেশের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইউএসসিআইএস।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা