শফিক ও বাবরের ব্যাটে টেস্টের নিয়ন্ত্রণ নিল পাকিস্তান

পোর্ট অব স্পেনের মাঠ যেন আজ পাকিস্তানের ব্যাটারদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছিল। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে ২ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ২৬৬ রান। ওপেনার শান মাসুদের পরিবর্তে দলে সুযোগ পেয়েই অসাধারণ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন আব্দুল্লাহ শফিক। বাবর আজমের সঙ্গে তার অবিচ্ছিন্ন ১৬৮ রানের অনবদ্য জুটিতে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৪৪ রানের স্কোরের জবাব বেশ ভালোভাবেই দিচ্ছে সফরকারীরা। দিন শেষে শফিক ১০৭ এবং বাবর ৮৬ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন।
দিনের শুরুটা হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস গুটিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। সাজিদ খানের ঘূর্ণিজাদুতে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস ৩৪৪ রানে থামিয়ে পাকিস্তান নিজেদের ব্যাটিংয়ের কাজ শুরু করে। ওপেনিংয়ে আজান আওয়াইস এবং ইমাম-উল-হক ইতিবাচক শুরু করলেও চা-বিরতির আগে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল দলটি। ইমামকে ফেরান শামার জোসেফ এবং আজানকে তুলে নেন জোমেল ওয়ারিক্যান। আজান ৫৩ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরলে ১৩৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়েছিল পাকিস্তান।
তবে তৃতীয় উইকেটে আব্দুল্লাহ শফিক এবং বাবর আজম পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পিচ সময়ের সঙ্গে ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ হয়ে এলে উইন্ডিজের বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরাতে থাকেন এই দুই ব্যাটার। স্বাগতিকদের অন্যতম বোলার জাস্টিন গ্রিভস পায়ের ইনজুরির কারণে বোলিং করতে না পারায় বোলিং আক্রমণে দুর্বলতা দেখা দেয়, যার পূর্ণ সুযোগ নিয়েছেন বাবর-শফিক। তারা অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে প্রতিটি লুজ ডেলিভারিকে বাউন্ডারিতে পরিণত করেছেন এবং নিয়মিত স্ট্রাইক রোটেশন বজায় রেখে উইন্ডিজের বোলারদের কোনো সুযোগ দেননি।
চা-বিরতির পরবর্তী সেশনটি পুরোপুরি পাকিস্তানের দখলে ছিল। বাবর তার চেনা ছন্দে ফিরে ব্যাক-ফুট পাঞ্চ, ড্রাইভ এবং ফ্লিকের প্রদর্শনীতে টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩৩তম ফিফটি তুলে নেন। অন্যদিকে শফিক ছিলেন অটল। জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে পুল শট খেলে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরি পূরণ করেন শফিক। উপমহাদেশ এবং এশিয়ার বাইরে এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি। সব মিলিয়ে ২০০৬ সালের পর এশিয়ার বাইরে পাকিস্তানের পক্ষে তৃতীয় উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ রানের জুটি।
দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তান স্বাগতিকদের চেয়ে মাত্র ৭৮ রানে পিছিয়ে আছে। হাতে রয়েছে ৮টি উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে প্রথম ইনিংসে জাস্টিন গ্রিভস ৭৩ এবং রোস্টন চেজ ৭০ রান করেন। পাকিস্তানের পক্ষে সাজিদ খান ৪টি উইকেট শিকার করেন। বল হাতে উইন্ডিজের বোলাররা বেশ কয়েকবার সুযোগ তৈরি করলেও ফিল্ডিংয়ের ভুলে কাঙ্ক্ষিত ব্রেক-থ্রু পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।
