AdvertisementAdvertisement

পাট রপ্তানি আয় দ্বিগুণ করতে ৪ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা সরকারের

গত পাঁচ বছরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয়ের নিম্নমুখী ধারা রুখতে ও খাতটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে পাঁচ বছর মেয়াদী একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন পাট অধিদপ্তর কর্তৃক প্রণীত ‘বাংলাদেশ পাট খাত উন্নয়ন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-৩১)’ শীর্ষক খসড়া অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় দ্বিগুণ করার পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পাটপণ্য উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রায় ৪ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছালেও, পরবর্তী চার বছরে তা ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮২ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। মূল্য সংযোজিত পণ্যের অভাব, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার তীব্রতা এবং ভারতের আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক এই পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া দেশের ২৬৬টি পাটকলের মধ্যে ৭৩টি বন্ধ থাকা এবং পাট অধিদপ্তরে জনবল সংকটের মতো কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলো খাতটির প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নতুন কর্মপরিকল্পনায় ২০৩১ সালের মধ্যে বার্ষিক রপ্তানি আয় ১৬৪ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কাঁচা পাটের উৎপাদন ১১৫ থেকে ১২০ লাখ বেলে উন্নীত করা এবং দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পাটবীজের চাহিদার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ মেটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মানসম্মত রপ্তানি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার স্থাপন ও তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৫২টি দেশে পাটপণ্য রপ্তানি করলেও, মোট রপ্তানির ৬৩ শতাংশই তুরস্ক, চীন ও ভারত—এই তিনটি দেশের ওপর নির্ভরশীল। অতিরিক্ত বাজার-নির্ভরতা কাটিয়ে নতুন বাজারের সন্ধানে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. নূরুল বাসির জানিয়েছেন যে, অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে খসড়াটি চূড়ান্ত করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাপস প্রামাণিক সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, অতীতে নেওয়া অনেক প্রতিশ্রুতিশীল পরিকল্পনা যেন কাগজেই সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকে নীতিনির্ধারকদের বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে। শিল্পসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়োপযোগী বিনিয়োগ ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সোনালী আঁশের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

0%
0%
0%
0%