AdvertisementAdvertisement

অ্যাকশনধর্মী সিনেমা দ্য ফিউরিয়াস অনন্য এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা

মন ভালো নেই? ক্লান্তি ভর করেছে অবসাদে? কিংবা অ্যাকশন সিনেমার সেই চিরাচরিত ধুমধাড়াক্কা আমেজ মিস করছেন? তাহলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে ‘দ্য ফিউরিয়াস’। এই সিনেমার গল্প নতুন কোনো ধ্রুপদী আখ্যান নয়; বরং এক চিরচেনা কাহিনীকে কেন্দ্র করে পরিচালক সাজিয়েছেন অ্যাকশনের এক মায়াবী জাল। প্রায় দুই ঘণ্টার এই দীর্ঘযাত্রায় নির্মাতার একমাত্র উদ্দেশ্য আপনাকে লড়াইয়ের নেশায় বুঁদ করে রাখা। প্রাইম ভিডিওতে স্ট্রিমিং হওয়া এই ছবিটি দেখার পর আপনার মুখ থেকে কেবল একটিই বিস্ময়সূচক বাক্য বের হবে—এমন অ্যাকশন বাপের জন্মে দেখিনি!

সিনেমার নেপথ্যের কারিগর কেনজি তানিগাকি মূলত একজন অ্যাকশন কোরিওগ্রাফার হিসেবেই সমাদৃত। ফলে গল্প যে খুব বেশি নতুনত্ব আনবে না, তা আগেভাগেই আঁচ করা গিয়েছিল। ছবির কেন্দ্রে রয়েছেন শি মিয়াও অভিনীত মূক চরিত্র ওয়াং ওয়ে। অপহৃত মেয়েকে উদ্ধারে জীবন বাজি রাখা এক বাবার এই লড়াই অনেকটা হলিউডের ‘টেকেন’ সিনেমার আবহ তৈরি করলেও, পরিচালক এখানে দীর্ঘ সংলাপের বদলে ক্যামেরার লেন্স আর ফাইটিং মুভসকেই প্রধান ভাষা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আর এখানেই তিনি বাজিমাত করেছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

প্রথম দৃশ্য থেকেই ছবির গতিবেগ আপনাকে আচ্ছন্ন করে রাখবে। ট্রাকের ভেতর জ্যাকি চ্যান ধাঁচের কুংফু স্টাইল দিয়ে শুরু হয়ে, উত্তেজনার পারদ যেভাবে প্রতিটি ধাপে চড়তে থাকে, তা এক কথায় অতুলনীয়। ক্যামেরার কাজ এখানে যেন যোদ্ধাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্বয়ং নিজে লড়াই করছে! এর সঙ্গে ইলেকট্রনিক মিউজিকের নিখুঁত মেলবন্ধন প্রতিটি অ্যাকশন সিকোয়েন্সকে দিয়েছে এক তীব্র ও ঝকঝকে মাত্রা। প্রতিটি আঘাতের শব্দ আপনার শরীরে কাঁপন ধরাতে বাধ্য।

তবে ‘দ্য ফিউরিয়াস’ শুধুই গাম্ভীর্যপূর্ণ নয়; হংকং অ্যাকশন সিনেমার ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এতে রাখা হয়েছে দারুণ সব রসবোধ। মোটরসাইকেলের পেছনে বসে ছোট শিশুর অতর্কিত হামলার মতো কিছু অতিরঞ্জিত দৃশ্যও বাস্তবতার সীমানা ছাড়িয়ে আপনাকে নির্মল আনন্দ দেবে। আবেগী দৃশ্যগুলো মাঝে মাঝে গল্পের গতি কিছুটা শ্লথ করে দিলেও, নির্মাতা দ্রুতই আবার সেই পরিচিত অ্যাকশন-তাণ্ডবে ফিরে আসেন, যা দেখার জন্যই দর্শকরা মরিয়া হয়ে থাকেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় মধ্যভাগের সেই ভয়াবহ লড়াইয়ের কথা, যেখানে ব্রায়ান লে-এর স্লেজহ্যামার হাতে উপস্থিতি সিনেমার উত্তেজনাকে তুঙ্গে নিয়ে যায়। আর ক্লাইম্যাক্সের পুলিশ স্টেশনের সিকোয়েন্সটি যেন উশু, জুডো আর মার্শাল আর্টের এক চূড়ান্ত প্রদর্শনী। ‘দ্য রেইড’ ফ্র্যাঞ্চাইজির কথা মনে করিয়ে দেওয়া এই অংশটি রক্তক্ষয়ী হলেও কারিগরি দক্ষতায় এক অনন্য সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রাখে।

পরিশেষে, ‘দ্য ফিউরিয়াস’ কোনো সাধারণ মার্শাল আর্ট মুভি নয়; এটি অ্যাথলেটিক দক্ষতা, নিখুঁত কোরিওগ্রাফি আর ভিজ্যুয়াল এস্থেটিকসের এক চমৎকার সংমিশ্রণ। ছবিটি আপনাকে শারীরিকভাবে ক্লান্ত করতে পারে, কিন্তু রোমাঞ্চের এক চরম শিখরে পৌঁছে দিতে এর জুড়ি নেই। তবে একটা সতর্কবার্তা—এক বসায় এই সিনেমা দেখার পর ঘোর থেকে বের হতে আপনার নিশ্চিতভাবেই কিছুটা সময় ও বিশ্রামের প্রয়োজন হবে।

0%
0%
0%
0%