ভারতে প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন পাস, কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান দ্বিগুণ

ভারতের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ সংক্রান্ত কঠোর আইন। যুবসমাজের ব্যাপক বিক্ষোভ এবং আন্দোলনের মুখে দেশটির সরকার পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধে কারাদণ্ড ও জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেতের পর বিলটি সংসদের উভয় কক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল। এখন রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এটি আইন হিসেবে কার্যকর হবে।
নতুন এই আইন অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি আর্থিক জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে ১ কোটি রুপি বা তার বেশি করা হয়েছে। গত বুধবার নিম্নকক্ষে পাস হওয়ার পর বৃহস্পতিবার উচ্চকক্ষে দীর্ঘ বিতর্কের পর কণ্ঠভোটে বিলটি গৃহীত হয়। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এ সময় বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আমাদের শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ, আর সেই বিনিয়োগ রক্ষা করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মূলত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামক একটি অনলাইন আন্দোলনের নেতৃত্বে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ মোদি সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই আন্দোলনের চাপে গত শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
দীর্ঘদিন ধরে ভারতজুড়ে জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। গত জুলাই মাসে নয়া দিল্লিতে বিক্ষোভকারীরা সংসদ অভিমুখে যাত্রা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও লাঠিপেটা ব্যবহার করলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া সম্প্রতি জাতীয় মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় তেরো জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, যা শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
