জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু সংস্কারের চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে এগিয়ে রেবেকা গ্রিনস্প্যান

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্বজুড়ে চলমান বহুমুখী ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক সংস্থাটির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের এক কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে উত্তরসূরি খুঁজছে জাতিসংঘ। গত এক দশক ধরে দায়িত্ব পালনকারী আন্তোনিও গুতেরেসের স্থলাভিষিক্ত হতে যাওয়া ব্যক্তিকে সংস্কারের তীব্র চাপ এবং পপুলিস্ট আন্দোলনের ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে পড়তে হবে।
নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক ও অনানুষ্ঠানিক ভোটাভুটিতে কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান এগিয়ে রয়েছেন। পনেরো সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের এই প্রতীকী ভোটে তিনি ১০টি সমর্থনসূচক ভোট পেয়েছেন। গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রড্রিগেজ বার্কেট নয়টি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি অপ্রত্যাশিতভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের এই গোপন ভোটে প্রার্থীদের প্রতি ‘উৎসাহ’, ‘অনুৎসাহ’ বা ‘মতামত নেই’—এই তিন ক্যাটাগরিতে সমর্থন চাওয়া হয়। তবে চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য রাষ্ট্র—চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অপরিহার্য। ঐতিহাসিকভাবে এ ধরনের ভোটাভুটি গ্রীষ্মকাল পেরিয়ে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর পর্যন্ত গড়িয়ে থাকে। যদি ঐকমত্যের ভিত্তিতে কোনো প্রার্থী বেরিয়ে না আসে, তবে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের এই দৌড়ে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল, চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাশেলে এবং ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা। গত সপ্তাহে উগান্ডার কূটনীতিক ওলারা ওতুনু নতুন করে এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। তবে নির্বাচন প্রক্রিয়া চলমান থাকায় ভবিষ্যতে আরও প্রার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
