AdvertisementAdvertisement

ইরানকে অস্ত্র দিলে চীনের ওপর কঠোর ক্ষোভের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করলে বেইজিংয়ের ওপর কঠোর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, চীন যদি তেহরানকে কোনো প্রকার মারণাস্ত্র সরবরাহ করে, তবে তিনি তাতে অত্যন্ত হতাশ হবেন। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে ব্যক্তিগতভাবে আশ্বাস দিয়েছেন যে বেইজিং ইরানের কাছে কোনো অস্ত্র বিক্রি করবে না।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান চীন থেকে কাঁধে বহনযোগ্য ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্র পেতে পারে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, পশ্চিম চীনের উরুমকি থেকে আকাশপথে এসব অস্ত্র পাকিস্তানে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে সেগুলো ইরানে পৌঁছাবে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এমন ঘটনা ঘটলে তিনি বিস্মিত হবেন, তবে শি জিনপিং তাকে জোর দিয়ে আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি এমন কোনো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এর আগে সিএনএনের এক গোয়েন্দা মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, চীন ইরানে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন যে, চীন ও রাশিয়া কেউই বর্তমানে তেহরানকে কোনো সামরিক সহায়তা দিচ্ছে না। তার মতে, ইরানকে অস্ত্র দেওয়া চীন ও রাশিয়ার নিজস্ব স্বার্থের পরিপন্থী এবং এমন কাজ করলে তা তাদের জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক পরিণতির সৃষ্টি করবে।

এদিকে অস্ত্র সরবরাহের এই প্রতিবেদনগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাত নিরসনে চীন সবসময়ই গঠনমূলক ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া, পাকিস্তান হয়ে ইরানে অস্ত্র পাঠানোর যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তাকেও মনগড়া ও মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যমতে, আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই চুক্তির আওতায় ৩০০ থেকে ৪০০টি ম্যানপ্যাড বা কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ইরান পেতে পারে। এর মধ্যে চীনের তৈরি কিউডব্লিউ-১২ ও এফএন-১৬ ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ঝংকিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট এই চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে তেহরান এই উদ্যোগ নিয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%