হরমুজ প্রণালীতে সংকটের জেরে কানাডামুখী এশীয় দেশগুলো

হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে সৃষ্ট তীব্র অনিশ্চয়তার মুখে কানাডার টিএমএক্স অপরিশোধিত তেলের দিকে ঝুঁকছে এশিয়ার দেশগুলো। বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি করিডোরটি সংঘাতের কারণে অচল হয়ে পড়ায় জাপানসহ এশীয় দেশগুলো তাদের আমদানি উৎসে বৈচিত্র্য আনার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। শিপিং ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এক্সন মোবিল কর্তৃক চার্টারকৃত মারশাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী জাহাজ ‘ফ্রিডম গ্লোরি’ ইতিমধ্যে সাত লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল কানাডীয় অপরিশোধিত তেল নিয়ে ভ্যাঙ্কুভার বন্দর ত্যাগ করেছে।
২০২৫ সালের পর কানাডা থেকে জাপানের উদ্দেশ্যে এটাই প্রথম তেল চালান। জাপানের বৃহত্তম তেল শোধনাগার ইনেওস এই চালানটি সংগ্রহ করেছে। এদিকে, জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্যের প্রভাবে বৃহস্পতিবার টোকিও তাদের বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১.৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত জাপান তাদের মোট জ্বালানি চাহিদার ৯০ শতাংশেরও বেশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে আমদানি করত, যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
কানাডার আলবার্টা থেকে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বার্নাবিতে অবস্থিত মেরিন টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত ট্রান্স মাউন্টেন পাইপলাইন বা টিএমএক্স বর্তমানে প্রতিদিন আট লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল পরিবহন করছে। ফেডারেল সরকারের মালিকানাধীন এই পাইপলাইনটি ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিক থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ সক্ষমতায় সচল রয়েছে। চলতি বছর ভ্যাঙ্কুভার থেকে এশিয়ায় রপ্তানিকৃত মোট তেলের ৭৭ শতাংশই গিয়েছে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে, যা ২০২৪ সালে ছিল মাত্র ৫১ শতাংশ।
ইরান যুদ্ধের পর ভারত, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো পুনরায় কানাডীয় জ্বালানির দিকে মনোনিবেশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশই আসে কানাডা থেকে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটনের সাথে বাণিজ্য আলোচনার ক্ষেত্রে তিনি কানাডার তেল সরবরাহকে কোনো রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চান না। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন গত সপ্তাহে কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেও কার্নি দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন, কানাডা তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অবিচল। তিনি উল্লেখ করেছেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহকারী হিসেবে দায়িত্বশীল থাকাটাই তাদের অগ্রাধিকার।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
