এনএসসিএন-আইএম-এ বড় ভাঙন, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নতুন সরকার গঠন ঘিরে উত্তর-পূর্ব ভারতে অস্থিরতার আশঙ্কা

নাগা বিদ্রোহী সংগঠন ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অফ নাগালিম বা এনএসসিএন-আইএম-এর অভ্যন্তরে গভীর বিভাজন প্রকাশ্যে এসেছে। মায়ানমারভিত্তিক বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির ‘ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্ক’ অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বা প্রোভিশনাল সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়ায় থুইঙ্গালেং মুইভাহের নেতৃত্বাধীন হেবরন-ভিত্তিক মূল কাঠামোর সঙ্গে তাদের বিচ্ছেদ চূড়ান্ত রূপ নিল। সংগঠনের প্রয়াত চেয়ারম্যান ইসাক চিশি সুয়ের ছেলে ইকাতো আই. চিশি সুকে এই নতুন সরকারের চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
গত ২১ জুলাই মায়ানমারের মাউন্ট হোরেব ক্যাম্পে আয়োজিত এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্কের সহ-সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এইচ. এস. রামসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় নাগা রাজনৈতিক আন্দোলনকে বিদ্যমান সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে নতুন এই নেতৃত্বকে সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়। নতুন সরকারে উপদেষ্টা হিসেবে রেভারেন্ড ভিটোভি ইয়েপুথোসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে যুক্ত করা হয়েছে।
মূল নেতৃত্বের সঙ্গে এই বিরোধের মূলে রয়েছে ভারত সরকারের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনার রূপরেখা ও আদর্শিক মতপার্থক্য। নতুন বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির অভিযোগ, বর্তমান নেতৃত্ব প্রবীণ নেতাদের বহিষ্কার করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আপস করার পথ প্রশস্ত করছে, যা নাগা জনগণের সার্বভৌম অধিকারের পরিপন্থী। বিশেষ করে ২০১৫ সালের ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে, ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্ক সশস্ত্র প্রতিরোধের ইঙ্গিত দিয়েছে।
এই ঘটনা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা ও শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ১৯৯৭ সাল থেকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে এনএসসিএন-আইএম-এর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে সংগঠনের ভেতরেই সমান্তরাল নেতৃত্ব গড়ে ওঠায় শান্তি আলোচনার পথ এখন আরও জটিল ও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, কারণ বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি এখন বিভক্ত। নতুন গোষ্ঠীটির সশস্ত্র আন্দোলনের ঘোষণা নাগাল্যান্ড, মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ ও অসমের সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নতুন করে অস্থিরতা ও আন্তঃগোষ্ঠী সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করেছে। মায়ানমার সীমান্তে বিদ্রোহী আস্তানাগুলো সক্রিয় হওয়ায় সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাড়তি সতর্কতা ও চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস