সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে অতি বৃষ্টির সতর্কতা জারি, তৈরি হয়েছে বিশাল রেন বেল্ট

ভারতে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়েছে সাত হাজার থেকে ১০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এক বিশাল ‘রেন বেল্ট’, যা উত্তর ভারত থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির প্রায় ৮৮ থেকে ৯২ শতাংশ এলাকা ঘন মেঘে ঢাকা পড়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাবে উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পঞ্জাব, হরিয়ানা ও দিল্লি-এনসিআর-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রবল থেকে অতি প্রবল বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চলতি মাসের শুরুতে মৌসুমি বায়ু প্রবল থাকলেও মাঝপথে তা অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। আবহাওয়াবিদদের মতে, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে মৌসুমি অক্ষরেখা হিমালয়ের পাদদেশের দিকে সরে যাওয়ায় উত্তর ও মধ্য ভারতের সমতল অঞ্চলে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। সেই সময় মধ্য ভারতের ওপর বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহের একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি হওয়ায় আরব সাগর ও ভারত মহাসাগর থেকে আসা আর্দ্র বাতাস মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।

তবে গত চার দিনে আবহাওয়ার নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি শক্তিশালী নিম্নচাপ মৌসুমি অক্ষরেখাকে পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরিয়ে এনেছে। আবহাওয়াবিদরা এই নিম্নচাপকে এক ধরনের ‘ভ্যাকুয়াম’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন, যা ভারত মহাসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প দ্রুত ভারতের দিকে টেনে আনছে। এর ফলে তৈরি হওয়া এই সুবিশাল মেঘের করিডর বা ‘রেন বেল্ট’ এখন দেশজুড়ে ব্যাপক বর্ষণ ঘটাচ্ছে।

আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর। এর ফলে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২৬ ও ২৭ জুলাই অতি প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, গুজরাট ও উত্তরপ্রদেশেও ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বিজ্ঞাপন

মৌসুমি বায়ুর সংযোগ অঞ্চলের প্রভাবে সৃষ্ট এই দীর্ঘ মেঘের করিডর বা ‘রেন বেল্ট’ আগামী কয়েকদিন ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে দাপট দেখাতে পারে। প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে জলাবদ্ধতা, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব রাজ্যকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%