AdvertisementAdvertisement

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিরতি: কূটনীতির পথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে টানা দুই সপ্তাহের তীব্র সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হামলা সাময়িকভাবে স্তিমিত হয়ে এসেছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে শুক্রবার থেকে ইরানের ওপর বিমান হামলা স্থগিত করা হয়েছে, যার ফলে তেহরানের পক্ষ থেকেও মার্কিন সামরিক স্থাপনার ওপর পাল্টা হামলার ঘটনা বন্ধ রয়েছে। তবে এই বিরতির মূল কারণ হিসেবে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুদ ফুরিয়ে আসার গুঞ্জনকে সামনে আনছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা নিরসনে ইসলামাবাদ মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তা ভেঙে পড়ার পর গত দুই সপ্তাহ উভয় পক্ষই ব্যাপক সামরিক শক্তি প্রদর্শন করেছিল। এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে এসেছে, যা উভয় পক্ষকেই নতুন করে সমঝোতার টেবিলে ফেরার সংকেত দিচ্ছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ত্র সংকটের কথা অস্বীকার করেছেন, তবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যাট্রিয়ট অ্যান্টি-মিসাইল ইন্টারসেপ্টরসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি নিয়ে পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উদ্বেগে রয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

হরমুজ প্রণালী এখনো আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য কার্যত বন্ধ রাখা হয়েছে, যা যুদ্ধের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইরান দাবি করেছে, দেশটির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করা ছয়টি জাহাজকে তারা সরিয়ে দিয়েছে। এদিকে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীতেও হুতি বিদ্রোহীদের তৎপরতায় নৌচলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেনীয় হামলায় এক ইরানি নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তেহরান ও কিয়েভের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

লেবাননের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড দখল করে রাখা ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে আসা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সামরিক পন্থার চেয়ে কূটনৈতিক সমঝোতাই এখন মার্কিন প্রশাসনের জন্য অধিক যুক্তিসঙ্গত কৌশল। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি; মার্কিন নৌবাহিনী এখনো ইরানি বন্দরগুলোতে তাদের অবরোধ বহাল রেখেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক নাদের হাবিবি আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহের সংঘর্ষে বৈশ্বিক অর্থনীতি চরম চাপে পড়েছিল এবং তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব ও সামরিক সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা এখন দুই পক্ষকেই সমঝোতায় বাধ্য করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। কাতার, মিশর ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বর্তমানে ১০ দিনের একটি নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে, যা এই সংঘাত নিরসনে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%