পেরুর জুনিন অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৫, গৃহহীন তিন শতাধিক মানুষ

পেরুর রাজধানী লিমা থেকে পূর্বে অবস্থিত পার্বত্য অঞ্চল জুনিনে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্প। রয়টার্সের প্রতিবেদন ও দেশটির সরকারি তথ্যানুযায়ী, শনিবার রাতে সংঘটিত ৫.১ ও ৩.৭ মাত্রার এই ভূকম্পনে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও ২১ জন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

পেরুর জাতীয় ভূতাত্ত্বিক কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ২৪ কিলোমিটার গভীরে এবং দ্বিতীয়টি আঘাত হানে ১৮ কিলোমিটার গভীরে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম একসিতোসা রেডিওর তথ্যমতে, ভূকম্পনের ফলে অন্তত ৪৮টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও ১৮টি বাড়ি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৩০০ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন, যাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাঁবুর ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।

জুনিন অঞ্চলের চুপাকা শহরের ঘরবাড়িগুলো মূলত কাদা ও মাটির ইটের তৈরি হওয়ায় ভূমিকম্পে সেগুলো দ্রুত ধসে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মাটির তৈরি পুরোনো ঘরবাড়িগুলো কম্পন সহ্য করতে না পেরে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। দুর্গত এলাকাগুলোর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে কাজ করছেন সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা।

দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট কেইকো ফুজিমোরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এই বিপর্যয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। পেরুর জাতীয় সিভিল ডিফেন্স ইনস্টিটিউটের প্রধান লুইস ভাসকুয়েজ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, পেরু ভৌগোলিকভাবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’ বা অগ্নিবলয়ের ওপর অবস্থিত। বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ৮৫ শতাংশই এই অঞ্চলে সংঘটিত হয়, যার ফলে দেশটি প্রায়শই উচ্চ মাত্রার ভূকম্পন ঝুঁকির মুখে থাকে। সাম্প্রতিক এই বিপর্যয় পেরুর অবকাঠামোগত ভঙ্গুরতা ও ঝুঁকি নিরসনে নতুন করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%