AdvertisementAdvertisement

উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপালের রান্নাবিষয়ক মন্তব্যের সমর্থনে কঙ্গনা রানাওয়াতের পোস্ট নিয়ে তীব্র বিতর্ক

বলিউডের ‘কন্ট্রোভার্সি কুইন’ খ্যাত অভিনেত্রী ও সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত ফের একবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। এবার উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেলের নারীদের রান্না বিষয়ক এক মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে রাজ্যপালের বক্তব্যের সপক্ষে সাফাই গেয়ে কঙ্গনা দাবি করেছেন, রান্না করা এবং ঘরকন্নার প্রতি ভালোবাসা নারীর সহজাত প্রবৃত্তি, যা তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

সম্প্রতি এক জনসভায় রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল মন্তব্য করেছিলেন যে, কর্মজীবী নারী বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়ার পাশাপাশি একজন নারীকে অবশ্যই রান্নায় দক্ষ হতে হবে। রাজ্যপালের মতে, পরিবারের দেখাশোনা এবং সন্তানদের সুশিক্ষিত করে তোলার মধ্যেই নারীর প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। কঙ্গনা এই বক্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে নিজের শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করেন। তিনি জানান, ছোটবেলায় পুতুল খেলার সময় থেকেই রান্নাবান্না ও ঘর গোছানোর প্রতি তাঁর বিশেষ ঝোঁক ছিল। অভিনেত্রী আরও যোগ করেন যে, ঈশ্বর নারীকে লালন-পালনের শক্তি দিয়েছেন বলেই তাঁকে অন্নপূর্ণা বা দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়। প্রিয়জনকে খাইয়ে তৃপ্তি পাওয়ার মধ্যে যে পরম আনন্দ আছে, তা অন্য কিছুর সঙ্গে তুলনীয় নয় বলেই মনে করেন তিনি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

কঙ্গনার এমন রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। নেটিজেনদের একটি বড় অংশ অভিনেত্রীর এই মন্তব্যকে ‘পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা’র চরম বহিঃপ্রকাশ বলে কটাক্ষ করেছেন। সমালোচকদের মতে, রান্নার কাজকে নারীর অবশ্য কর্তব্য বা সহজাত স্বভাব হিসেবে তকমা দেওয়া এক ধরনের প্রথাগত লিঙ্গবৈষম্য, যা আধুনিক যুগে একেবারেই অনভিপ্রেত। কঙ্গনার মতো প্রভাবশালী একজন ব্যক্তিত্বের মুখে এমন মন্তব্য নারী অধিকারের লড়াইকে পিছিয়ে দেবে বলে অভিমত অনেকের।

এদিকে ব্যক্তিগত মতাদর্শের বিতর্কের পাশাপাশি কঙ্গনার কর্মজীবনও এখন বেশ টালমাটাল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১৩ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘কুইন’-এর সিক্যুয়েল ‘কুইন ২’-এর শুটিং শেষ করলেও, ছবিটি এখন আইনি গেরোয় আটকে পড়েছে। বিকাশ বহল পরিচালিত এই সিনেমার ওপর প্রযোজনা সংস্থা ‘ফ্যান্টম স্টুডিওস’ বোম্বে হাইকোর্টে আড়াইশ কোটি টাকার একটি মামলা দায়ের করেছে। সংস্থার দাবি, তাদের লিখিত অনুমতি ছাড়াই বেআইনিভাবে এই সিক্যুয়েল নির্মাণ করা হয়েছে, যার ফলে ছবিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, রাজনীতির মাঠ থেকে চলচ্চিত্রের পর্দা—সর্বত্রই কঙ্গনা রানাওয়াত এখন চর্চার শিরোনামে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%