কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জন

কক্সবাজার জেলায় টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সৃষ্ট দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। চকরিয়া উপজেলায় বন্যার পানিতে ভেসে নিখোঁজ হওয়ার ২২ ঘণ্টা পর এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং রামু উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেসে গিয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ দুই ঘটনায় জেলায় দুর্যোগজনিত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে ১৫ জনই রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা।
চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল এলাকায় শনিবার বিকেলে সোনাইছড়ি নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হয় তেরো বছর বয়সী কিশোর সজিব দাস। দীর্ঘ ২২ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযানের পর রোববার বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল এলাকার তুফান দাসের ছেলে সজিব চকরিয়ায় তার নানীর কাছে থাকত। বন্ধুদের সঙ্গে বের হয়ে নদীর পানিতে পড়ে যাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল সে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার রুপায়ন দেব জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃতদেহ বহনের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াসহ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য পরিবারের হাতে নগদ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে রোববার সন্ধ্যায় রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফাক্রিকাটা গ্রামের একটি কালভার্টসংলগ্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে নিরঞ্জন দাশ নামের পঁয়ষট্টি বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে কর্মস্থল শেষে বাড়ি ফেরার পথে বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা সড়ক পার হতে গিয়ে পা পিছলে প্রবল স্রোতে ভেসে যান তিনি। ঘটনার খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাওয়া এসব প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়রা চরম শোক ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এবং এ ধরনের দুর্যোগে অসহায় পরিবারের জন্য দ্রুত ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
