AdvertisementAdvertisement

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি তিন দিনেও নিখোঁজ ছয় জেলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনার তিন দিন পার হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ছয় জেলে। গত ৪ জুলাই রাতে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে পাড়ি জমানোর পর ৫ জুলাই রাতে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজদের কোনো সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজ জেলেরা হলেন গজালিয়া ইউনিয়নের ফোরকান হাওলাদার, তার ছেলে সায়েদ, আল আমিন, পানপট্টি ইউনিয়নের হারুন মিয়া, ইমাদুল খাঁ এবং সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের আক্কাস। তাদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড ও স্থানীয় জেলেরা নিরলসভাবে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বুধবার দুপুর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সমুদ্রের উত্তাল পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকার্য ব্যাহত হচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

জীবিত উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন ট্রলারের মালিক ইমাদুল সিকদার, নাজমুল, সজীব, বায়েজিদ ও রাকিব। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ইমাদুল সিকদার ও রাকিব দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী।

ট্রলার মালিক ইমাদুল সিকদার জানান, রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী এলাকা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে গভীর সমুদ্রে আকস্মিক দমকা হাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার সময় ইঞ্জিন ও কেবিনে আটকা পড়া তিন জেলে বের হতে পারেননি। বাকিরা ভাসমান বয়া ও ট্রলারের ধ্বংসাবশেষ আঁকড়ে ধরে ছয় ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর সোমবার ভোরে অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলারের মাধ্যমে প্রাণ রক্ষা করেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় ট্রলার মালিকের বাবা ইদ্রিস সিকদার স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নিখোঁজ জেলেদের পরিবার এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ জেলেদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করছেন।

0%
0%
0%
0%