১৯৯১ সালের বিমান ছিনতাই: বেনজির ভুট্টোর দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে সরব সিঙ্গাপুরের প্রাক্তন কূটনীতিক

১৯৯১ সালের সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় পাকিস্তানের তৎকালীন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর দায়িত্বজ্ঞানহীনতার তীব্র সমালোচনা করেছেন সিঙ্গাপুরের প্রবীণ কূটনীতিক বিলাহারি কৌসিকান। ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করা এই কূটনীতিক সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সেই ভীতিকর অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে বলেন, চরম সংকটের মুহূর্তেও ভুট্টো যে উদাসীনতা দেখিয়েছিলেন, তা ছিল অকল্পনীয়।
ঘটনাটি ঘটেছিল যখন কুয়ালামপুর থেকে সিঙ্গাপুরে আসা বিমানটির ১১৪ জন যাত্রী ও ১১ জন ক্রু সদস্যকে পাকিস্তানি জঙ্গিরা পণবন্দি করেছিল। তৎকালীন পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে বিলাহারি কৌসিকান জানান, জঙ্গিরা শুধুমাত্র বেনজির ভুট্টোর সঙ্গেই কথা বলতে চেয়েছিল, যদিও তখন তিনি পাকিস্তানের সরকারপ্রধান ছিলেন না। গভীর রাতে সিন্ধু প্রদেশে অবস্থানরত ভুট্টোর সঙ্গে জরুরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার নিরাপত্তারক্ষীরা সাফ জানিয়ে দেন যে, ম্যাডাম ঘুমাচ্ছেন এবং তাকে বিরক্ত করা যাবে না।
সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে সিঙ্গাপুরের প্রাক্তন কূটনীতিক বলেন, এতগুলো মানুষের প্রাণ নিয়ে যখন টানাটানি, তখন দায়িত্বশীলতার পরিচয় না দিয়ে এমন তুচ্ছ অজুহাতে এড়িয়ে যাওয়া ছিল চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। শেষ পর্যন্ত কোনো সাড়া না পাওয়ায় সিঙ্গাপুরের কমান্ডো বাহিনী অভিযান চালিয়ে জঙ্গিদের নিকেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে কৌসিকান মন্তব্য করেন যে, পাকিস্তানের বর্তমান করুণ পরিস্থিতির জন্য তাদের অযোগ্য রাজনৈতিক নেতারাই মূলত দায়ী।
বিলাহারি কৌসিকান কেবল বেনজির ভুট্টোর সমালোচনাই করেননি, বরং পাকিস্তানের সামগ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, দেশটির সমস্যা কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং তা অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সংকট, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং জিহাদি গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার ফল। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান না করলে পাকিস্তান রাষ্ট্র হিসেবে সবসময় ব্যর্থ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ঝুলে থাকবে।
নিজের বক্তব্যের উপসংহারে এই কূটনীতিক অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিশ্বসম্প্রদায় পাকিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তাদের খোঁজ রাখে না। মূলত দেশটির কৌশলগত পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণেই বিশ্ববাসীর মনোযোগ পাকিস্তানের দিকে নিবদ্ধ থাকে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা এবং তাদের হঠকারী কর্মকাণ্ডই দেশটিকে আজ খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস