ইন্দো-প্যাসিফিকে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদী

তিন দেশ সফরের অংশ হিসেবে বুধবার অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০১৪ ও ২০২৩ সালের পর এটি তার তৃতীয় অস্ট্রেলিয়া সফর। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত স্থিতিশীলতা রক্ষা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের উৎস নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই সফর ভারতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সফরের প্রথম পর্যায়ে সোমবার ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় পৌঁছান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাকে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানানো হয়। ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড—এই তিন দেশ সফর শেষে ভারতের কৌশলগত অবস্থান ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আরও সুসংহত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষত, এই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য মোকাবিলায় ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অভিন্ন অবস্থান দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
অস্ট্রেলিয়া সফরে কোয়াড জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ে গঠিত এই জোটের শীর্ষ সম্মেলনের রূপরেখা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে আটটি অস্ট্রেলীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় ক্যাম্পাসের কার্যক্রমকেও এই সফরের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের অবকাঠামো খাতে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগের পরিধিও দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন পেনশন ও অবকাঠামো তহবিল ভারতের সড়ক, লজিস্টিক ও সবুজ জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য অর্থায়ন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে এয়ারট্রাঙ্ক নামক একটি অস্ট্রেলীয় প্রতিষ্ঠান ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ৫ গিগাওয়াটের বেশি ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া সফরে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রতিরক্ষা খাতে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় আইআইএম ব্যাঙ্গালোরের বিদেশি ক্যাম্পাস স্থাপনের বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে ভারত ইন্দোনেশিয়াকে ব্রহ্মোস ও অ্যাস্ট্রা মিসাইল সরবরাহে সম্মত হয়েছে, যা দুই দেশের নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা কৌশলকে আরও শক্তিশালী করবে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস