সাইবার প্রতারণা রুখতে সচেতনতার বার্তা নিয়ে এল বন্ধন ব্যাংকের সাইবার কপ উদ্যোগ

ভারতের ডিজিটাল বিপ্লব দৈনন্দিন জীবনকে যেমন সহজতর ও গতিময় করেছে, তেমনি বাড়িয়ে তুলেছে সাইবার প্রতারণার ঝুঁকিও। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১০৩ কোটিতে উন্নীত হয়েছে এবং ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ইউনিফাইড পেমেন্ট ইন্টারফেস বা ইউপিআই লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২৯,৯০,৪২৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ক্রমবর্ধমান এই ডিজিটাল লেনদেনের বিপরীতে প্রতারকদের চতুর ও দ্রুতগতির কারসাজি সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় বন্ধন ব্যাংক ‘সাইবার কপ’ নামে একটি বিশেষ সিএসআর বা সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম শুরু করেছে। হিন্দুস্তান টাইমস ও ‘আইডেন্ট সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন’-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষকে সাইবার অপরাধের ধরন সম্পর্কে সচেতন করা। এই প্রচারণায় মানুষকে ‘থামুন, যাচাই করুন এবং রিপোর্ট করুন’—এই মূলমন্ত্র অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাড়াহুড়ো করে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি কমে।
ভারতর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সাইবার প্রতারণার কবলে পড়ে ভারতীয়দের প্রায় ২২,৪৯৫ কোটি টাকা খুইয়ে ফেলতে হয়েছে। এ সময়ে সারা দেশে ২ লক্ষের বেশি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে, যা মূলত ভুয়া ফোন কল, প্রতারণামূলক বিনিয়োগের প্রলোভন কিংবা ক্ষতিকারক লিঙ্কের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে। ডিজিটাল পেমেন্ট ও মোবাইল অ্যাপের সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা প্রায়শই ব্যবহারকারীদের ভয় দেখিয়ে বা প্রলুব্ধ করে ওটিপি ও কার্ডের সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির এই মহতী উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে বন্ধন ব্যাংক জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা রোহিত শেঠিকে যুক্ত করেছে। তাঁর বলিষ্ঠ ভাবমূর্তি ও পুলিশি চরিত্রের পরিচিতি সাইবার নিরাপত্তার বার্তাটিকে জনগণের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। রোহিত শেঠির মতে, সাইবার প্রতারণা থেকে বাঁচার জন্য কয়েক সেকেন্ডের সঠিক সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ, যা কেবলমাত্র সচেতনতার মাধ্যমেই সম্ভব।
ভারতর সরকারও ‘ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল’ এবং ১৯৩০ হেল্পলাইনের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক সহায়তার ব্যবস্থা জোরদার করেছে। তবুও ক্রমবর্ধমান এই অপরাধ ঠেকাতে ব্যক্তিগত সতর্কতা ও অভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই। ‘সাইবার কপ’ কার্যক্রমটি সাধারণ মানুষকে ফিশিং লিঙ্ক বা ভুয়া কাস্টমার কেয়ারের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল শেখানোর পাশাপাশি নিরাপদ ডিজিটাল অভ্যাসের পাঠ দিচ্ছে।
পরিশেষে বলা যায়, সাইবার নিরাপত্তা এখন আর কেবল বিশেষজ্ঞদের বিষয় নয়, বরং তা নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বন্ধন ব্যাংকের এই উদ্যোগ গ্রাহকদের ডিজিটাল লেনদেনে আত্মবিশ্বাস যোগানোর পাশাপাশি একটি নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সচেতনতাই যে ডিজিটাল যুগে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা কবচ, এই প্রচারণা মূলত সেই বার্তাই বহন করছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
