পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে বেনজির ভুট্টোর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ মোনাজাত

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রয়াত নেত্রী শহীদ বেনজীর ভুট্টোর ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশটির জাতীয় সংসদে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। রবিবার সংসদের অধিবেশনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ও জনসেবায় তার অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় ফাতেহা পাঠ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সংসদ সদস্য আইজাজ হোসেন জাখরানি এ সময় আলোচনায় অংশ নিয়ে বেনজীর ভুট্টোকে গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন ও রাজনৈতিক সাহসিকতার এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, দুই দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী বেনজীর ভুট্টো তার পুরো রাজনৈতিক জীবনে অবিচলভাবে গণতান্ত্রিক আদর্শের পক্ষে লড়াই করেছেন। গণতন্ত্রের সুসংহত ভবিষ্যতের জন্য তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং শাহাদাতবরণ পর্যন্ত সেই আদর্শে অবিচল থেকেছেন।

আইজাজ হোসেন জাখরানি আরও উল্লেখ করেন যে, বেনজীর ভুট্টো ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের প্রথম কোনো নারী সরকারপ্রধান। তিনি সবসময় নারী অধিকার রক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক সুশাসনের প্রসারে নিরলস কাজ করে গেছেন। এছাড়া দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির বিকাশে তার গৃহীত পদক্ষেপ বহিঃশত্রুর হুমকি মোকাবিলায় পাকিস্তানকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, দক্ষিণ এশিয়া তথা বিশ্বজুড়ে বেনজীর ভুট্টোর অবদান অপরিসীম, তাই তার অভাব কেবল পাকিস্তানে নয়, পুরো অঞ্চলেই অনুভূত হয়। তিনি জনগণের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন এবং দেশের জন্য তার ত্যাগ ও সেবা জাতি সবসময় কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।

বিজ্ঞাপন

পরিশেষে জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকের অনুরোধে হাফিজ মিয়া মুহাম্মদ নুমান ফাতেহা পাঠ করেন। এ সময় শহীদ বেনজীর ভুট্টোর রুহের মাগফিরাত ও জান্নাতে তার মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ

0%
0%
0%
0%