GDL GigaX Y10
General & Launch
Network
Body
Display
Platform
Memory
Camera
Sound
Connectivity
Battery
Features
- ১০ হাজার টাকার নিচে ৯০ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে।
- ৫০০০ এমএএইচ ব্যাটারি, যা দীর্ঘক্ষণ ব্যাকআপ নিশ্চিত করে।
- টাইপ-সি চার্জিং পোর্ট এবং ১৮ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট।
- সাইড মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর যা এই বাজেটে বেশ কাজের।
- দেখতে বেশ স্টাইলিশ এবং আধুনিক ফ্ল্যাট এজ ডিজাইন।
- ডেডিকেটেড মেমোরি কার্ড স্লট ব্যবহারের সুবিধা।
- ইউনিসক টি৬১৬ চিপসেট গেমিংয়ের জন্য খুব একটা উপযুক্ত নয়।
- ডিসপ্লের রেজোলিউশন এইচডি প্লাস (৭২০পি), যা ফুল এইচডি হলে ভালো হতো।
- ক্যামেরার পারফরম্যান্স গড়পড়তা, বিশেষ করে রাতে ভালো ছবি আসে না।
- চার্জ হতে প্রায় আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় নেয়।
- স্পিকারের সাউন্ড কোয়ালিটি খুব বেশি লাউড বা ক্লিয়ার নয়।
বিস্তারিত
GDL GigaX Y10 market price in Bangladesh is BDT 8,990 (Official). বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজারে ১০ হাজার টাকার নিচের সেগমেন্টটি সবসময়ই বেশ প্রতিযোগিতামূলক।
বিভিন্ন নামী-দামী ব্র্যান্ডের ভিড়ে ‘জিডিএল’ (GDL) তাদের ‘GigaX Y10’ মডেল দিয়ে এন্ট্রি-লেভেল গ্রাহকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। মূলত যারা খুব কম বাজেটে একটি স্মার্টফোন খুঁজছেন যা দেখতে সুন্দর এবং ব্যাটারি ব্যাকআপ ভালো দেবে, তাদের লক্ষ্য করেই এই ফোনটি বাজারে আনা হয়েছে। আজকের রিভিউতে আমরা দেখব এই বাজেট ফোনটি দৈনন্দিন ব্যবহারে আসলে কেমন পারফর্ম করে।
ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি বাজেট ফোন হলেও GDL GigaX Y10 দেখতে বেশ আধুনিক। বর্তমানে ফ্ল্যাট ফ্রেম বা বক্সি ডিজাইনের যে ট্রেন্ড চলছে, এই ফোনেও তা অনুসরণ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ প্লাস্টিক বডি হলেও এর পেছনের ফিনিশিংয়ে ম্যাট টেক্সচার ব্যবহার করা হয়েছে, যা হাতের ছাপ পড়া থেকে কিছুটা রক্ষা করে। ফোনটি হাতে নিলে খুব একটা ভারী মনে হয় না, তবে এর ৮.৫ মিমি পুরুত্ব কিছুটা বেশি মনে হতে পারে। ক্যামেরা মডিউলটি ফোনের পেছনের অংশের সাথে বেশ সুন্দরভাবে মানিয়ে গেছে। ডানপাশে পাওয়ার বাটনের সাথে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি বসানো হয়েছে, যা এই দামের ফোনে একটি ভালো দিক।
ডিসপ্লে এবং ভিজ্যুয়াল এক্সপেরিয়েন্স ফোনটিতে রয়েছে ৬.৬ ইঞ্চির একটি আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে। যেহেতু এটি একটি এন্ট্রি-লেভেল ফোন, তাই এর রেজোলিউশন এইচডি প্লাস (৭২০ x ১৬১২ পিক্সেল)। তবে ভালো লাগার বিষয় হলো এতে ৯০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট দেওয়া হয়েছে।
ফলে সাধারণ স্ক্রলিং বা মেনু নেভিগেশন করার সময় ফোনটি বেশ স্মুথ মনে হয়। ডিসপ্লের কালার রিপ্রোডাকশন চলনসই, খুব বেশি ভাইব্রেন্ট নয় আবার খুব ফ্যাকাশেও নয়। তবে ডিসপ্লের ব্রাইটনেস খুব বেশি না হওয়ায় কড়া রোদে স্ক্রিন দেখতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। ডিসপ্লের নিচের দিকের চিন বা বর্ডার কিছুটা মোটা, যা এই বাজেটে স্বাভাবিক।
পারফরম্যান্স এবং হার্ডওয়্যার পারফরম্যান্সের জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে ইউনিসক টি৬১৬ (Unisoc T616) চিপসেট। এটি একটি বাজেট প্রসেসর যা সাধারণ কাজের জন্য তৈরি। আপনি যদি ফোনটি দিয়ে শুধু কল করা, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব বা ইমো ব্যবহার করতে চান, তবে এটি আপনাকে হতাশ করবে না। ৪ জিবি র্যাম এবং অ্যান্ড্রয়েড ১৪ (গো এডিশন) থাকার কারণে সাধারণ মাল্টিটাস্কিং মোটামুটি ভালোভাবে সামলানো যায়।
তবে গেমিংয়ের কথা চিন্তা করলে এই ফোনটি কেনা উচিত হবে না। ফ্রি-ফায়ার বা সাবওয়ে সার্ফারের মতো গেমগুলো লো সেটিংসে খেলা গেলেও, পাবজি বা কল অফ ডিউটির মতো ভারী গেম খেলতে গেলে ফোনটি ল্যাগ করবে এবং গরম হয়ে যাবে। এটি মূলত ক্যাজুয়াল ইউজারদের জন্য, হেভি ইউজারদের জন্য নয়।
ক্যামেরা সেকশন GDL GigaX Y10-এর পেছনে ৫০ মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরা থাকার দাবি করা হয়েছে। দিনের উজ্জ্বল আলোতে এই ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবিগুলো দাম অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য। ছবিতে ডিটেইলস মোটামুটি থাকে এবং কালারও স্বাভাবিক আসে। তবে আলো কমে গেলে বা ইনডোরে ছবি তুলতে গেলে ছবির মান কমে যায় এবং নয়েজ দেখা দেয়। সাথে থাকা এআই লেন্সটি মূলত শো-পিস হিসেবেই কাজ করে।
সেলফির জন্য সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। এটি দিয়ে সাধারণ ভিডিও কল বা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়ার মতো সেলফি তোলা সম্ভব। তবে বিউটিফিকেশন মোড ব্যবহার করলে ছবি কিছুটা কৃত্রিম মনে হতে পারে। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে ১০৮০পি ৩০ এফপিএস সাপোর্ট থাকলেও ভিডিওর কোয়ালিটি খুব একটা আহামরি নয় এবং কোনো স্ট্যাবিলাইজেশন নেই।
ব্যাটারি এবং চার্জিং বাজেট ফোনের ব্যবহারকারীরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন ব্যাটারির ওপর, আর এখানেই GigaX Y10 ভালো করেছে। এতে রয়েছে ৫০০০ এমএএইচ ব্যাটারি। সাধারণ ব্যবহারে এই ফোনটি অনায়াসেই দেড় থেকে দুই দিন ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। এমনকি সারাদিন ভিডিও দেখলেও দিনের শেষে চার্জ অবশিষ্ট থাকবে। চার্জিংয়ের জন্য এতে ১৮ ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট এবং টাইপ-সি পোর্ট দেওয়া হয়েছে। যদিও ১৮ ওয়াট খুব দ্রুত নয়, তবুও মাইক্রো ইউএসবি পোর্টের বদলে টাইপ-সি দেওয়াটা প্রশংসনীয়। সম্পূর্ণ চার্জ হতে এটি প্রায় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মতো সময় নেয়।
সফটওয়্যার এবং অন্যান্য ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১৪ গো এডিশনে চলে। গো এডিশন হওয়ার কারণে এতে গুগল অ্যাপগুলোর লাইট ভার্সন ব্যবহার করা হয়েছে যা কম র্যামেও স্মুথলি চলে। ইন্টারফেসটি বেশ ক্লিন, তবে কিছু অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ প্রি-ইনস্টল করা থাকতে পারে। সাউন্ড কোয়ালিটির দিক থেকে স্পিকারটি খুব জোরালো না হলেও ইনডোরে গান শোনার জন্য যথেষ্ট। কল কোয়ালিটি এবং নেটওয়ার্ক রিসেপশন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভালো।
সব মিলিয়ে, GDL GigaX Y10 হলো তাদের জন্য একটি পারফেক্ট চয়েস যারা ১০ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ব্যাটারি এবং সুন্দর ডিজাইনের একটি স্মার্টফোন খুঁজছেন। এটি আপনার বাবা-মা বা বাসার বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের জন্য কিংবা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথম স্মার্টফোন হিসেবে দারুণ হতে পারে। তবে আপনি যদি গেমার হন বা খুব ভালো ক্যামেরা আশা করেন, তবে আপনাকে বাজেট বাড়িয়ে অন্য কোনো মডেল দেখতে হবে। এই বাজেটে ৯০ হার্টজ ডিসপ্লে এবং টাইপ-সি পোর্ট অফার করে GDL সাধারণ গ্রাহকদের কাছে একটি ভালো প্যাকেজ তুলে ধরেছে