বিশ্বমঞ্চে আজ ফ্রান্স-আর্জেন্টিনার মিশন শুরু সেনেগাল ও আলজেরিয়ার বিপক্ষে অগ্নিপরীক্ষার হাতছানি

বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে আজ মঙ্গলবার মাঠে নামছে শিরোপাপ্রত্যাশী আর্জেন্টিনা এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে ফ্রান্স মুখোমুখি হবে সেনেগালের, যা ২০০২ সালের বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক উদ্বোধনী ম্যাচটির পুনরাবৃত্তি। অন্যদিকে, লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ক্যানসাস সিটিতে লড়বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে। মঙ্গলবার মাঠে নামা অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে রয়েছে নরওয়ে, ইরাক, অস্ট্রিয়া ও জর্দান।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা ফ্রান্স এবারের টুর্নামেন্টের অন্যতম হট ফেভারিট। তবে প্রতিপক্ষ সেনেগালকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ২০০২ সালে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে সেনেগাল ১-০ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। সেই হারের ক্ষত এখনো ফরাসিদের মনে দগদগে। অপটার সুপার কম্পিউটারের পরিসংখ্যান বলছে, ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৬৪ দশমিক ৮ শতাংশ, যেখানে সেনেগালের জয়ের সম্ভাবনা ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ।
অন্যদিকে, ক্যানসাস সিটি স্টেডিয়ামে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা মুখোমুখি হবে আলজেরিয়ার। ইতিহাস কথা বলছে লাতিন আমেরিকানদের পক্ষে। এর আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে কখনো মুখোমুখি না হলেও, ২০০৭ সালের এক প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ ব্যবধানে জিতিয়েছিলেন তরুণ মেসি। ২৫ হাজার সিমুলেশনের ভিত্তিতে অপটার তথ্যানুযায়ী, আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ। একই দিনে নরওয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামবে এবং অস্ট্রিয়া লড়বে জর্দানের বিপক্ষে।
মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও বিশ্বকাপের আবহ এখন বেশ সরগরম। স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ঐতিহাসিক গোলশূন্য ড্রয়ের পর গোলরক্ষক ভোজিনহা রীতিমতো তারকা বনে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অনুসারীর সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৯ লক্ষে। এদিকে, সৌদি আরব উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। তবে বিশ্বকাপের উত্তাপের মাঝেও দুঃসংবাদ পেয়েছে তিউনিসিয়া; সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে হারের পর কোচ সাবরি লামুচিকে বরখাস্ত করেছে দেশটি।
ইরাকের দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে আসার বিষয়টি দেশটির জনগণের মাঝে যেমন আনন্দ বয়ে এনেছে, তেমনি ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় সমর্থকদের স্টেডিয়ামে যেতে না পারার আক্ষেপও প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে, ফিফা কর্তৃপক্ষ জার্মান বনাম কুরাসাও ম্যাচে রেফারি শন ইভান্সের বর্ণবাদী অঙ্গভঙ্গির অভিযোগ খতিয়ে দেখেছে এবং কোনো প্রমাণ পায়নি বলে নিশ্চিত করেছে। মাঠের বাইরের এই নানা ঘটনার ভিড়েও বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন নিউ জার্সি ও ক্যানসাস সিটির দিকে।
