কিয়েভকে হুমকির ঘটনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর তলব রুশ রাষ্ট্রদূতদের

কিয়েভের ওপর নতুন করে বিমান হামলার হুমকির প্রেক্ষিতে বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের শহর ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে মস্কো, যা ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রুশ এই হুঁশিয়ারিকে ‘অগ্রহণযোগ্য উসকানি’ হিসেবে অভিহিত করে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের দেশে দায়িত্বরত রুশ দূতদের তলব করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুখপাত্র আনিতা হিপ্পার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় রাশিয়ার প্রতি অবিলম্বে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধ এবং নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে প্রকৃত শান্তি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

গত সোমবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে নতুন করে হামলার পরিকল্পনার কথা জানায় মস্কো। সপ্তাহান্তে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক হামলায় চারজন নিহত হওয়ার পর এই সতর্কবার্তা এলো। এর আগে গত সপ্তাহে অধিকৃত লুহানস্ক অঞ্চলে একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলায় ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সামরিক বাহিনীকে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারই অংশ হিসেবে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, কিয়েভের সামরিক-শিল্প স্থাপনা ও নীতিনির্ধারণী কেন্দ্রগুলোতে ধারাবাহিক হামলা চালানো হবে।

এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় জার্মানির ফেডারেল ফরেন অফিস জানিয়েছে, মস্কো সরাসরি হুমকি ও সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বার্লিন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, এ ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না এবং ইউক্রেনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত থাকবে। নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডসও রাশিয়ার এই উসকানিমূলক আচরণের প্রতিবাদে তাদের দেশে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে।

এদিকে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনো সমাধান না হওয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ওয়াশিংটন এখনও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে মধ্যস্থতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে বর্তমানে উভয় পক্ষের আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে আছে। এর আগে মে মাসের শুরুতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির পরাজয়ের বার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও উভয় পক্ষ একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করায় লড়াই দ্রুতই নতুন মাত্রা পায়। রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলায় ওরেখনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহারও উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যা শব্দের চেয়ে ১০ গুণ দ্রুত গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%