লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চাইছেন প্রেসিডেন্ট আউন

দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার নিশ্চিত করা এবং হিজবুল্লাহর প্রভাববলয় থেকে মুক্ত হয়ে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আদায়ে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। চার দিনের এই সরকারি সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। রোমে অনুষ্ঠিত মধ্যস্থতাকারী আলোচনার ধারাবাহিকতায় এই সফর লেবাননের নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিজ্ঞাপন

সফরের শুরুতেই রোববার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রেসিডেন্ট আউন। বৈঠকে রুবিও স্পষ্ট করেছেন যে, হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিকল্প হিসেবে লেবাননের সরকারকে একমাত্র বৈধ সামরিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি সম্ভব। সেই সঙ্গে তিনি কেবল সামরিক সহায়তার ওপর গুরুত্ব না দিয়ে লেবাননের ভঙ্গুর অবকাঠামো পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও জোর দেন।

লেবাননের প্রেসিডেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের পর কোনো লেবানিজ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে এটাই প্রথম ওয়াশিংটন সফর। এদিকে, রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবানন থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা ‘পাইলট জোন প্রোগ্রাম’ নামে পরিচিত। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার জাওতার আল-গারবিয়াহ শহর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে যাওয়ার পর সেখানে লেবাননের সরকারি সেনা মোতায়েন শুরু হয়েছে।

মার্চ মাসে শুরু হওয়া ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযানে ইতিমধ্যে ৪ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১২ লক্ষাধিক মানুষ। তবে ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ না করা পর্যন্ত তারা পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করবে না। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে লেবানন সরকারের সরাসরি ইসরায়েলি আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করা হচ্ছে, যা লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্ট আউনের সরকার এমন এক সময়ে ক্ষমতায় এসেছে, যখন দেশটিতে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা ও গভীর রাজনৈতিক বিভাজন বিরাজ করছে। হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করে রাষ্ট্রের একক কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে লেবাননকে রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা আদায়ের এই মিশনকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কূটনীতিকরা। তবুও লেবাননের নেতৃত্ব বলছে, টেকসই নিরাপত্তার জন্য ইসরায়েলের চূড়ান্ত প্রত্যাহার এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%