Advertisement

ফ্লোরিডায় কিউবান মার্কিনিদের মধ্যে রিপাবলিকানদের আধিপত্য অটুট

ফ্লোরিডার রাজনীতিতে কিউবান-আমেরিকান ভোটারদের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে রিপাবলিকান পার্টি। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসন নীতি নিয়ে কিউবান কমিউনিটির মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ থাকলেও, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন না বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১৯ লাখ কিউবান-আমেরিকান বসবাস করেন, যার মধ্যে অন্তত ৯ লাখ মানুষের ঠিকানা মিয়ামি-ডেড কাউন্টি। কয়েক দশক ধরে এই এলাকাটি রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক গুইলেরমো গ্রেনিয়ার বলেন, কিউবান-আমেরিকান ভোটাররা ঐতিহাসিকভাবে রিপাবলিকান পার্টির প্রতি অনুগত। তাঁদের মতে, এই আনুগত্য কোনো আকস্মিক বিষয় নয়, বরং কয়েক দশকের সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল ও সমাজতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার ফসল। আশির দশকে রোনাল্ড রেগানের সময়কালে কমিউনিস্টবিরোধী কঠোর অবস্থান কিউবানদের মনে রিপাবলিকান পার্টির প্রতি এক গভীর আস্থার জন্ম দেয়, যা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও সঞ্চারিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতি এই ভোটারদের অনীহার পেছনে ১৯৯৯ সালের এলিয়ান গঞ্জালেজ কাণ্ডকেও বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়। তৎকালীন ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের শাসনামলে ৫ বছর বয়সী এই কিউবান শিশুকে জোরপূর্বক তার বাবার কাছে ফেরত পাঠানোয় ফ্লোরিডার কিউবান কমিউনিটি ক্ষুব্ধ হয়েছিল। এরপর থেকে ডেমোক্র্যাটরা কিউবান ভোটারদের মন জয়ের ক্ষেত্রে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

তবে অভিবাসন নীতি নিয়ে বর্তমান ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান কিউবানদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছে। বর্তমানে কিউবানদের গণ-নির্বাসন দেওয়ার বিষয়টি তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু জনমত জরিপ বলছে, এই ইস্যুটির চেয়েও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক সংকট ভোটারদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইউনিডোসইউএস-এর এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৩০ শতাংশ কিউবান ভোটার জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোকে কংগ্রেসের প্রধান কাজ হিসেবে দেখছেন।

বিজ্ঞাপন

রিপাবলিকান পার্টির প্রতিনিধি কেভিন কুপার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, প্রতিটি নির্বাচন সামনে এলেই রিপাবলিকানদের হাত থেকে কিউবানরা সরে যাচ্ছে বলে প্রচার চালানো হয়, কিন্তু নির্বাচনের দিন ভোটাররা ঠিকই তাদের ওপর আস্থা রাখেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী রেইসি সরডোর মতে, তরুণ প্রজন্মের কিউবান ভোটাররা প্রথাগত দলীয় রাজনীতির বাইরে এসে অর্থনৈতিক মুক্তির পথ খুঁজছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ামি-ডেড কাউন্টিতে ডেমোক্র্যাটদের পুনরায় প্রভাব বিস্তার করতে হলে শুধু কিউবা নীতি নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের মতো অভ্যন্তরীণ জনকল্যাণমূলক ইস্যুগুলোতে নজর দিতে হবে। অধ্যাপক গ্রেনিয়ার সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছাড়া কিউবানদের ভোটব্যাংকে ফাটল ধরানো ডেমোক্র্যাটদের জন্য প্রায় অসম্ভব।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%