Advertisement

আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে কেনেডি সেন্টারে ট্রাম্পের নাম পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত ও দুই বছরের জন্য কেন্দ্র বন্ধের ঘোষণা

ঐতিহাসিক কেনেডি সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টসের পরিচালনা পর্ষদ ভবনটি আগামী দুই বছরের জন্য বন্ধ রাখার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভবনটির নামকরণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম পুনরায় যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আল জাজিরার প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে নাম পরিবর্তনের তিন মাস না পেরোতেই এই নতুন পদক্ষেপ নিলো পর্ষদ, যা দেশজুড়ে তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

গত বছর পর্ষদ এই ভেন্যুর নাম পরিবর্তন করে ‘ডোনাল্ড জে ট্রাম্প অ্যান্ড জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টস’ করার সিদ্ধান্ত নিলে দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার সূত্রপাত হয়। এর প্রেক্ষিতে বিচারক রায় দেন যে, নাম পরিবর্তনের একক আইনি এখতিয়ার কেবল কংগ্রেসের, পরিচালনা পর্ষদের নয়। সেই রায়ের ভিত্তিতেই গত মে মাসে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। সেই একই আদেশে ৫ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া বন্ধের প্রক্রিয়াটিও স্থগিত করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

কংগ্রেসের নেতৃত্ব পর্যায়ের সদস্য ও কেনেডি সেন্টারের পর্ষদ সদস্য জয়স বিটি এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আদালতের রায়কে পাশ কাটিয়ে এবং কংগ্রেসের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নাম পুনর্বহালের এই প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এই জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভের মর্যাদা রক্ষায় তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভবনটির ব্যাপক সংস্কারের যুক্তি দেখানো হলেও, এটি তিনটি সম্ভাব্য কৌশলের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংস্কারের জন্য আংশিক বন্ধ বা দীর্ঘমেয়াদী পর্যায়ক্রমিক মেরামতের মতো বিকল্প প্রস্তাবগুলো পর্ষদ উপেক্ষা করেছে। এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কেনেডি সেন্টারকে নতুন করে আইনি জটিলতার মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই ঐতিহাসিক ভেন্যুটি নানা মামলার জালে জড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি জ্যাজ সংগীতশিল্পী চাক রেড পরিবেশন বাতিল করায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল কেনেডি সেন্টার। আদালতের রায়ে সেই মামলায় পরাজিত হয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে চাক রেডকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হয়েছে। এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও কেনেডি সেন্টারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%