Advertisement

ভূমিকম্প মোকাবিলায় করণীয় ও সতর্কতামূলক নির্দেশিকা

ভূমিকম্প একটি আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি প্রশমনে সচেতনতা এবং পূর্বপ্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে ঘরবাড়ি ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের মজুত রাখা জীবন বাঁচাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি-র পরামর্শ অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি।

নিরাপদ থাকার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে নিজ বাসগৃহ, কর্মক্ষেত্র কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন। আসবাবপত্রের মধ্যে বইয়ের শেলফ বা আলমারি দেয়ালের সঙ্গে শক্তভাবে আটকে দেওয়া উচিত এবং ভারী ও ভঙ্গুর বস্তুগুলো নিচের তাকে রাখতে হবে। এছাড়া গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির প্রধান সংযোগগুলো কীভাবে দ্রুত বন্ধ করতে হয়, তা পরিবারের সদস্যদের আগেভাগেই জেনে রাখা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সর্বদা একটি জরুরি ‘সারভাইভাল কিট’ হাতের কাছে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। এই কিটে বিশুদ্ধ পানি, পচনশীল নয় এমন খাবার, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, টর্চলাইট, অতিরিক্ত ব্যাটারি, রেডিও, বাঁশি এবং জরুরি ওষুধ রাখা আবশ্যক। এর পাশাপাশি পাওয়ার ব্যাংক, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের অনুলিপি, কিছু নগদ অর্থ এবং ভাঙা কাচ বা ধ্বংসস্তূপ থেকে পা রক্ষার জন্য মজবুত জুতো সঙ্গে রাখা বাঞ্ছনীয়।

ভূমিকম্প শুরু হলে তাড়াহুড়ো করে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা না করে ঘরের ভেতরে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়াই শ্রেয়। সিডিসির মতে, ভবন কাঁপনরত অবস্থায় বাইরে বের হওয়া বিপজ্জনক, কারণ ওপর থেকে কাচ, ইট বা অন্যান্য বস্তু পড়ে গুরুতর আহতের ঝুঁকি থাকে। তাই কম্পন না থামা পর্যন্ত ঘরের ভেতরে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা উচিত।

বিজ্ঞাপন

কম্পন থেমে যাওয়ার পরেই বিপদ পুরোপুরি কেটে যায় না। পরবর্তী পরাঘাত বা আফটারশক মোকাবিলায় সতর্ক থাকতে হবে এবং গ্যাস লিক বা বৈদ্যুতিক তারের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। কোনো ধরনের গ্যাস লিকের গন্ধ পেলে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে হবে এবং নিজে বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামত করার ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল রাখতে অপ্রয়োজনীয় কল এড়িয়ে টেক্সট মেসেজ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পরিশেষে, দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং সরকারি নির্দেশনাবলী অনুসরণ করা জরুরি। প্রতিটি মুহূর্তের সঠিক সিদ্ধান্ত ও পূর্বপ্রস্তুতিই পারে বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা করতে। শান্ত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং অন্যের সহায়তায় এগিয়ে আসাই একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%