যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের দুরবস্থা নিয়ে তদন্তের দাবি সিনেটরদের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার আবহে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের দুর্বিষহ পরিস্থিতি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন আইন প্রণেতারা। প্রায় সাত মাস ধরে কোনো বন্দরে নোঙর না করে সাগরে অবস্থানরত এই রণতরীটিতে নিয়োজিত পাঁচ হাজারেরও বেশি নাবিক ও মেরিন সেনার মানবেতর জীবনযাপন নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথের কাছে জরুরি জবাবদিহিতা চাওয়া হয়েছে।
ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল পেন্টাগন প্রধানকে লেখা এক চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ঐতিহাসিকভাবে কোনো বিরতিহীন বন্দর যাত্রার রেকর্ড ভেঙে একটানা সাত মাস সমুদ্রে অবস্থান করছে। মে মাসে মিশন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বারবার মেয়াদ বাড়ানোয় রণতরীটির নাবিকরা চরম মানসিক চাপে পড়েছেন। ব্লুমেনথালের ভাষ্যমতে, জাহাজে মৌলিক সরঞ্জামের সংকট, পানি দূষণ, নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং এমনকি ব্যক্তিগত ডাক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় সিনেটর রুবেন গ্যালেগো দ্বিদলীয় একটি প্রতিনিধিদলকে সরাসরি জাহাজটি পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার দাবি তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে সেনা সদস্যদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে এমন প্রতিনিধিদল পাঠানোর নজির থাকলেও ইউএসএস লিংকনের ক্ষেত্রে কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে তা বোধগম্য নয়। সাবেক নৌ কর্মকর্তা ও সিনেটর মার্ক কেলি নাবিকদের সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে মিশনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও সমাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
নৌবাহিনী ও সামরিক বিষয়ক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রণতরীটিতে নিয়োজিত সেনা সদস্যদের পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজনদের মানসিক অবসাদ এবং আত্মহত্যার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আনাবেল লোমা নামে এক নাবিকের স্ত্রী জানিয়েছেন, প্রচণ্ড কর্মচাপ ও মানসিক ক্লান্তিতে তার স্বামী জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এছাড়া মারিয়া রদ্রিগেজ নামে আরেক নারী অভিযোগ করেছেন, তার স্বামীর কাছ থেকে জেনেছেন যে অন্য এক সহকর্মীকেও একইভাবে ঝাঁপ দেওয়া থেকে কোনোমতে রক্ষা করা হয়েছে।
সম্প্রতি সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, গত মাসে একজন নাবিক জাহাজ থেকে পানিতে পড়ে গিয়েছিলেন এবং তাকে দ্রুত উদ্ধার করা হয়। নৌবাহিনী এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসকে জানিয়েছে যে, নাবিকদের মানসিক প্রস্তুতি বজায় রাখতে নেতৃত্ব সব সময়ই সতর্ক নজর রাখছে। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে মার্কিন আইন প্রণেতারা এখন পেন্টাগনের কাছে মিশনের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এবং বর্তমান রণকৌশলের যৌক্তিকতা নিয়ে কঠোর জবাবদিহিতার দাবি তুলেছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
