গাজায় ড্রোন হামলায় পুলিশ কর্মকর্তা নিহত, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনে বাড়ছে উদ্বেগ

গাজার নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল করে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি বাহিনীর ড্রোন হামলায় গাজা সিটির পুলিশ প্রধান কর্নেল জামাল আবু কামিল নিহত হয়েছেন। গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজা সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আল-রশিদ সড়কে চলন্ত গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলে ৪৩ বছর বয়সী এই জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণ হারান। এই হামলায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।
নিহত জামাল আবু কামিলকে হামাসের কমান্ডার হিসেবে দাবি করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, একটি হুমকি নিরসনে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে কোনো প্রকার প্রমাণ ছাড়াই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে গাজার পুলিশ বাহিনী। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, আবু কামিল কেবল তার পেশাগত পুলিশি দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত ছিলেন এবং অন্য কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। এই হত্যাকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত গুপ্তহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
একই দিনে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে একটি মোটরসাইকেলে ইসরায়েলি হামলায় হুথাইফা কাওয়ারি নামের এক ব্যক্তি নিহত ও অন্য একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গাজার নাসের হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গাজায় চলমান এই ভয়াবহ অস্থিরতা ও ইসরায়েলি আগ্রাসনকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধের ধারাবাহিকতা বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হামাস। সংগঠনটির মতে, গাজা উপত্যকায় বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতা সৃষ্টির ব্যর্থ প্রচেষ্টা থেকেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন অভিযানে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। অক্টোবরের ১০ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১ হাজার ২৫০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কথিত শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার না করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই কার্যত যুদ্ধবিরতির সব সম্ভাবনা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
শান্তি আলোচনার ব্যর্থতার পর ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা দখলীকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
