Advertisement

ইয়েমেনে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি, সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দেশটিতে মানবিক বিপর্যয়

ইয়েমেনে বিগত কয়েক দিনের তীব্র লড়াইয়ে সামরিক ও বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় দেশটিতে ফের সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির পর বর্তমানে পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক অবস্থানে রয়েছে বলে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে সতর্ক করেছেন।

ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীর মধ্যে মারিব, হাদরামাউত এবং আল-মাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে সংঘাত নতুন করে দানা বেঁধেছে। তায়েজে হুথিদের একটি বড় হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বুধবার সরকারি বাহিনী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হুথি অবস্থানে ড্রোন ও কামান হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, হুথিদের যেকোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের কঠোর ও সমন্বিত জবাব দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হুথিদের চলমান হামলার ঘটনা ইয়েমেনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে টেনে নিতে পারে বলে গ্রুন্ডবার্গ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উভয় পক্ষকে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমন করে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে, এক দশকের গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে বাণিজ্যিক বন্দরগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম, তেল রপ্তানি পুনরায় চালু এবং সানা বিমানবন্দর থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার নিরাপত্তা পরিষদকে জানিয়েছেন যে, সংঘাতের তীব্রতায় ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। দেশটির অর্ধেকেরও বেশি মানুষ খাদ্য নিরাপত্তার সংকটে ভুগছে এবং প্রায় ৬০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। বিশেষ করে নারীরা এই যুদ্ধের ভয়াবহ শিকার হচ্ছেন, যেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে প্রতিদিন অন্তত তিনজন গর্ভবতী নারী প্রাণ হারাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

ব্রিটেনের স্থায়ী প্রতিনিধি সারাহ ম্যাকিনটোশ এই সংকটের জন্য হুথিদের হঠকারী কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন। এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের জাজান প্রদেশের একটি তেল শোধনাগারে ড্রোনের মাধ্যমে হামলার দায় স্বীকার করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির দাবি, সৌদি আরব কর্তৃক ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘনের প্রতিবাদেই এই হামলা চালানো হয়েছে। গত ২০ জুলাই লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজের ওপর অবরোধ ঘোষণার পর থেকেই দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তজনা অব্যাহত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%