ক্ল্যাকটন উপনির্বাচনে জয়ী নাইজেল ফারাজ

যুক্তরাজ্যের ক্ল্যাকটন উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে পার্লামেন্টে নিজের আসন পুনরুদ্ধার করেছেন রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফারাজ। গত মাসে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করার পর নিজের অবস্থান সুসংহত করতে তিনি এই নির্বাচনের আয়োজন করেছিলেন। বিবিসি ও আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নির্বাচনে ফারাজ ২২ হাজার ২৩৯টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্ট বিনফেস ৯ হাজার ৪৫৫টি ভোট পেয়েছেন, যা এই অদ্ভুত প্রার্থীটির জন্য এ পর্যন্ত পাওয়া সর্বোচ্চ সমর্থন।
মাথায় ডাস্টবিন সদৃশ হেলমেট পরিহিত এবং নিজেকে ‘আন্তঃগ্যালাকটিক মহাকাশ যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া বিনফেসের কাছে এই লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়া ফারাজের জন্য বেশ বিব্রতকর ছিল। যুক্তরাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এই নির্বাচন বর্জন করায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাটি অনেকটা লোকহাসানো এক প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়। তবে ফল ঘোষণার সময় ফারাজ সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না এবং তার পূর্বনির্ধারিত বিজয় ভাষণটিও বাতিল করা হয়েছে।
নির্বাচনী ফলাফল আসার সময় ফারাজ এটিকে একটি ‘অপ্রতিরোধ্য বিজয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি দাবি করেন, ব্রিটিশ মূলধারার গণমাধ্যমের কাছে নয়, বরং ক্ল্যাকটনের জনগণের কাছে নিজের বিচার চেয়ে তিনি সফল হয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ফারাজ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধভাবে নৌকায় আসা আশ্রয়প্রার্থীদের ফিরিয়ে দিতে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর ব্যবহারের কঠোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ক্রোয়াসাঁর দাম নির্ধারণ ও স্থানীয় পাবের হাত শুকানোর যন্ত্রের স্থান পরিবর্তনের মতো অদ্ভুত সব ইশতেহার নিয়ে লড়া বিনফেস নির্বাচনী ফলাফলের চেয়ে ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানিয়েছেন। আগের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে, ঋষি সুনাক ও বরিস জনসনের সাথে নিজের পূর্বের প্রতিযোগিতার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, কেবল সংখ্যার দিক দিয়ে জয়ী হওয়াই শেষ কথা নয়। ২০১৯ সাল থেকে ছয়বার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বিনফেসের জন্য এটিই ছিল তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ভালো ফলাফল।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই উপনির্বাচনে ভোটের হার ছিল ৪৪ শতাংশ, যা চলতি বছরের সাধারণ নির্বাচনের ৫৯ শতাংশের তুলনায় বেশ কম। উল্লেখ্য, জুলাই মাসে ৫০ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ৬৭.৫০ লাখ ডলারের একটি বিদেশি উপহারের তথ্য গোপন করার অভিযোগের তদন্ত চলাকালে ফারাজ তার আসন থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ফারাজ দাবি করেন যে, তিনি কোনো আইন ভঙ্গ করেননি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
