তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ: রেকর্ড তাপমাত্রার ঝুঁকিতে কোটি কোটি মানুষ

বিশ্বের দ্রুততম উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ হিসেবে পরিচিত ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের কবলে পড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জার্মানির আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং ইউরোপীয় কমিশনের জয়েন্ট রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মহাদেশটির প্রায় ৩৪ কোটি মানুষ, অর্থাৎ প্রতি পাঁচজনের মধ্যে তিনজন ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অতিক্রমকারী তীব্র গরমের সম্মুখীন হয়েছেন। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাজ্যের প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি অসহনীয় তাপমাত্রার মুখোমুখি হচ্ছেন।
চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে এটি পঞ্চম দফার তাপপ্রবাহ। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাসমতে, যুক্তরাজ্যের মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে, যা এ বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড হতে পারে। অন্যদিকে, ফ্রান্সে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। ব্রিটেনের মেট অফিস সতর্ক করেছে, আগস্ট মাসে স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় থাকলেও গত বছরের রেকর্ড ভেঙে এটিই হতে পারে মহাদেশটির ইতিহাসে উষ্ণতম বছর।
তীব্র দাবদাহের কারণে যুক্তরাজ্যে দাবানলের ঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ন্যাশনাল ফায়ার চিফস কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এ বছর এক হাজারের বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম খোলা জায়গায় ডিসপোজেবল বারবিকিউ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তিনি জনস্বার্থে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, চরম উত্তাপের কারণে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের কার্যক্রম অচল হওয়ার উপক্রম হয়েছে। রয়্যাল কলেজ অব নার্সিং জানিয়েছে, পর্যাপ্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও বাতাসের প্রবাহ না থাকায় হাসপাতালগুলোতে নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। অনেক ক্ষেত্রে গর্ভবতী নার্সদের ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় কাজ করতে হচ্ছে, যা অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
ইউরোপের অধিকাংশ দেশেই বর্তমানে তীব্র খরার সংকট দেখা দিয়েছে। শুকিয়ে যাওয়া ফসল ও নদীর পানিস্তর নেমে যাওয়ায় কৃষিকাজ ও গৃহস্থালির পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম চাপের মুখে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে সৃষ্ট এই সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় সরকারগুলো দীর্ঘমেয়াদী ও জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
