শ্রপশায়ার কাউন্সিলে পতাকা অপসারণ; কর্মীরা ক্রমবর্ধমান গালাগালি ও হুমকির মুখে

ইংল্যান্ডের স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলো, বিশেষ করে শ্রপশায়ার এবং অক্সফোর্ডশায়ার কাউন্সিল, অননুমোদিত পতাকা অপসারণকে কেন্দ্র করে তীব্র হয়রানি, হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এসব পতাকা গত গ্রীষ্মে বার্মিংহামে শুরু হওয়া একটি প্রচারণার অংশ হিসেবে সারাদেশে ল্যাম্পপোস্ট, গোলচত্বর ও সড়ক অবকাঠামোতে স্থাপন করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পতাকা সরাতে গিয়ে তাদের কর্মী, কাউন্সিলর এবং সাধারণ নাগরিকরা ক্রমাগত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন, এমনকি দৈনন্দিন কর্মপরিচালনার সময়েও।
শ্রপশায়ার কাউন্সিল জানিয়েছে, অননুমোদিত পতাকা অপসারণে তাদের অবস্থানের ব্যাখ্যা দেওয়ার সময় কর্মী ও সদস্যরা হুমকির শিকার হয়েছেন। এমনকি সড়ক বাতির মেরামতের মতো দৈনন্দিন কাজেও তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের হয়রানির ঘটনা বৃদ্ধির একাধিক অভিযোগ তারা নথিভুক্ত করেছে।
যদিও পূর্বে শ্রপশায়ার কাউন্সিল এই বিষয়ে ‘মানুষকে নজরদারির’ সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার কথা বলেছিল, গত মাসে তারা নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে পতাকাগুলো অপসারণের ঘোষণা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, যারা এই পতাকাগুলো স্থাপন করেছে, তাদের অপসারণের খরচ বাবদ অর্থ আদায় করা হবে।
কাউন্সিলের একজন মুখপাত্র রবিবার জানান, ইউনিয়ন পতাকা একটি ‘জাতীয় প্রতীক’ যা ‘ব্যাপকভাবে সম্মানিত’। তবে তিনি স্বীকার করেন যে পতাকাগুলো সম্পর্কে ‘নানা ধরনের মতামত’ রয়েছে এবং কাউন্সিল এই মতামতগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সচেষ্ট। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যগত ও নিরাপত্তা ঝুঁকি, ক্ষয়ক্ষতি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উপর খরচের বোঝা এড়াতে ল্যাম্পপোস্ট, সড়ক অবকাঠামো বা অন্যান্য জনসমাগমস্থলে অননুমোদিতভাবে পতাকা বা অন্য কোনো বস্তু সংযুক্ত করা সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান।
মুখপাত্র আরও যোগ করেন, পতাকা অপসারণ করা কাউন্সিলের নিয়মিত কাজ নয় এবং এটি কোনো বিধিবদ্ধ পরিষেবাও নয়। ফলে এর জন্য কাউন্সিল এবং এর বাসিন্দাদের উপর অতিরিক্ত ব্যয়ভার চাপানো হচ্ছে।
বাজেটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সম্প্রতি ৯ শতাংশ কাউন্সিল ট্যাক্স বৃদ্ধি করা শ্রপশায়ার কাউন্সিল পূর্বে জানিয়েছিল যে, গত অক্টোবর মাসে স্টর্ম এমি আঘাত হানার পর অননুমোদিত পতাকা অপসারণে ১৩,০০০ পাউন্ড ব্যয় হয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়ায়, শ্রুসবারিতে পতাকা স্থাপনকারী একটি গোষ্ঠী খরচ বাঁচাতে বিনামূল্যে পতাকা সরিয়ে ফেলার প্রস্তাব দিয়েছিল।
এদিকে, অক্সফোর্ডশায়ার কাউন্সিলও তাদের কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পতাকা অপসারণকে কেন্দ্র করে ‘হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের’ অভিযোগের কথা জানিয়েছে। এলাকায় পতাকা স্থাপন বন্ধ করার লক্ষ্যে কাউন্সিল ‘রেইজ দ্য কালারস’ গোষ্ঠীকে একটি আনুষ্ঠানিক আইনি নোটিশ জারি করেছে।
গত মার্চের শেষে অক্সফোর্ডশায়ার কাউন্সিলের প্রধান লিজ লেফম্যান বলেন, “এই কর্মকাণ্ডের মাত্রা এবং এর ধারাবাহিকতা অক্সফোর্ডশায়ারের বিভিন্ন সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করছে। এটি ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভাজনের একটি কাজ যা আমাদের সম্প্রদায়ের উপর বাস্তব এবং ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের বাসিন্দারা নিজেদের পাড়ায় উদ্বিগ্ন, অবাঞ্ছিত এবং নিরাপত্তাহীন বোধ করার কথা জানাচ্ছেন। যারা পতাকা অপসারণ করছেন এবং যারা এগুলো স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তারাও হয়রানি ও হুমকির শিকার হচ্ছেন। এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান