স্থায়ী অভিবাসনে দীর্ঘসূত্রতা: শাবানা মাহমুদের আসনে অভিবাসী সেবাকর্মীদের লিফলেট প্রচার

ইউনাইটেড কিংডমের অভিবাসন নীতিতে প্রস্তাবিত ব্যাপক পরিবর্তনের প্রতিবাদে দেশটির বৃহত্তম ট্রেড ইউনিয়ন ইউনিসন ও অভিবাসী কর্মীরা এক গণ প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। বার্মিংহামের লেডিউড নির্বাচনী এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য শাবানা মাহমুদের আসনে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে, যা অভিবাসী সেবা কর্মীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের সময়কাল পাঁচ বছর থেকে দশ বছরে উন্নীত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এই পরিবর্তনগুলো অভিবাসী সেবা কর্মীদের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে ইউনিসন দাবি করেছে।
ইউনিয়নটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিবাসী সেবা কর্মীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদনের সময়কাল দ্বিগুণ করে পাঁচ বছর থেকে দশ বছর করা হবে, যা বর্তমান শ্রমবাজার এবং মানবিক উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই অগ্রহণযোগ্য। এছাড়া, ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা কর্তৃক স্পনসরশিপের বর্তমান নিয়মও শোষণের পথ খুলে দিচ্ছে উল্লেখ করে সরকারি সংস্থার মাধ্যমে স্পনসরশিপ পরিচালনার দাবি জানিয়েছে ইউনিসন। দেশের মোট সেবা কর্মীদের এক-তৃতীয়াংশ এবং এনএইচএস কর্মীদের এক-পঞ্চমাংশ অভিবাসী কর্মী হওয়ায় এই নীতি পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই গণ প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় এমপি শাবানা মাহমুদের প্রায় ৫৫,০০০ (পঞ্চান্ন হাজার) ভোটারের এক-তৃতীয়াংশের কাছে পৌঁছানোর আশা করছে ইউনিসন সদস্যরা। ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ সূত্রমতে, কোনো বড় মাপের লেবার-ঘনিষ্ঠ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দলের প্রধান নীতির বিরুদ্ধে এমন ব্যাপক লবিং এই প্রথম। উল্লেখযোগ্য যে, এই প্রস্তাবনাগুলোর ওপর সরকারের একটি শ্বেতপত্র প্রকাশিত হয়েছে এবং এ নিয়ে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত চলা গণপরামর্শে ২০০,০০০ (দুই লক্ষ) মানুষ তাদের মতামত জানিয়েছে।
এই গণ আন্দোলন শুক্রবার দেশব্যাপী ‘ফেয়ার ভিসা নাউ’ প্রচারণার অংশ হিসেবে একটি জাতীয় কর্মদিবসের একদিন আগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই কর্মদিবসে কর্মীরা তাদের স্থানীয় সংসদ সদস্যদের, বিশেষত লেবার পার্টির এমপিদের, ‘আর্ন্ড সেটেলমেন্ট’ প্রস্তাবনা নিয়ে উদ্বেগ জানাতে চাপ দেবেন। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া একজন অভিবাসী সেবা কর্মী, যিনি নিজেই উচ্চশিক্ষিত একজন হিসাবরক্ষক ও প্রত্যয়িত জালিয়াতি তদন্তকারী, জানান যে ব্রিটিশ সমাজে অবদান রাখতেই তিনি সেবা কাজ করছেন। তিনি প্রস্তাবিত সময়সীমা বৃদ্ধিতে চরম মর্মাহত হয়েছেন এবং বলেছেন, “আমরা পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারব বলে বৈধ প্রত্যাশা রেখেছিলাম। হোম সেক্রেটারিকে উড়তে যিনি ডানা দিয়েছেন, তিনি আমাদের সন্তানদের জন্যও যেন একই সুযোগ দেন। আশা করি, তিনি আমাদের কথা শুনবেন।”
আন্দোলনে জড়িত আরেকজন অভিবাসী সেবা কর্মী উল্লেখ করেছেন যে, নতুন নিয়মাবলী তাকে এবং তার পরিবারকে “মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে”। তিনি বলেন, “আমি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পরিচর্যার কাজ করি। আমি আমার কাজ ভালোবাসি, কারণ এটি মানবতার সেবার সুযোগ করে দেয়। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের কথা শুনে আমি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলাম। ব্রিটিশরা তাদের সহানুভূতির জন্য পরিচিত। আমরা হোম সেক্রেটারির কাছে এই পরিস্থিতিতে সহানুভূতি প্রদর্শনের আহ্বান জানাই। আমাদের পায়ের নীচ থেকে যেন মাটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
ইউনিসনের সাধারণ সম্পাদক আন্দ্রেয়া ইগান এই প্রসঙ্গে বলেন, “সামাজিক পরিচর্যা খাত ইতিমধ্যেই তীব্র চাপে রয়েছে, যেখানে হাজার হাজার পদ শূন্য পড়ে আছে। এই খাত বিদেশে থেকে আসা কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল, যারা এই অত্যাবশ্যকীয় কাজটি করতে ইচ্ছুক, কিন্তু হোম সেক্রেটারি তাদের জন্য দরজা বন্ধ করে দিচ্ছেন। যোগ্যতা অর্জনের সময়সীমা বাড়ানো অভিজ্ঞ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কর্মীদের এই খাত থেকে পুরোপুরি তাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি সরকার সামাজিক পরিচর্যা ঠিক করতে সত্যিই আগ্রহী হয়, তবে তাদের অবশ্যই মজুরি ও মান সংক্রান্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে কর্মশক্তির প্রতি ন্যায্য আচরণের সঙ্গে মেলাতে হবে। কিন্তু এর সর্বোত্তম উপায় হলো এই নিষ্ঠুর, অপ্রয়োজনীয় প্রস্তাবনাগুলো বাতিল করা।”
এদিকে, হোম অফিসের একজন মুখপাত্র এই প্রস্তাবনাগুলোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, “আমরা সর্বদা সেইসব মানুষকে স্বাগত জানাবো যারা এই দেশে আসেন এবং আমাদের জাতীয় জীবনে অবদান রাখেন। তবে এখানে চিরকাল বসবাসের বিশেষাধিকার অর্জন করতে হয়, তা স্বয়ংক্রিয় নয়।” মুখপাত্র আরও বলেন, “২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে, এই দেশটি এমন মাত্রার অভিবাসন প্রত্যক্ষ করেছে যা ঐতিহাসিকভাবে চার দশকে দেখা গিয়েছিল। লক্ষ লক্ষ স্বল্প-দক্ষ অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের কারণে সৃষ্ট বিশালতা ও প্রভাব সম্পর্কে আমাদের সৎ থাকতে হবে।” তিনি নিশ্চিত করেন যে সরকার স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে দশ বছরে দ্বিগুণ করবে এবং নভেম্বর মাসে ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যারা এখনো স্থায়ী মর্যাদা পাননি, তাদের ক্ষেত্রেও এই পরিবর্তন প্রযোজ্য হবে। হোম অফিস ২০০,০০০ (দুই লক্ষ) প্রতিক্রিয়ার পর্যালোচনা করছে এবং যথাসময়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবে।
তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান
