চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন পিয়ংইয়ং সফরকে কেন্দ্র করে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের তোড়জোড় তুঙ্গে। এই সফরের ঠিক আগমুহূর্তে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন নৌবাহিনীর জন্য ১০ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার নির্মাণ এবং গোপনীয় ডুবো অস্ত্র তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম রোডং সিনমুন শনিবার জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার কিম জং উন স্বয়ং উপস্থিত থেকে নৌবাহিনীর একটি বিশেষ মহড়া পর্যবেক্ষণ করেছেন।
সফরকালে কিম জং উন ৫ হাজার টন ওজনের দুটি যুদ্ধজাহাজ ‘কাং কন’ ও ‘ছোয়ে হিউন’-এর কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য, গত বছর চংজিন বন্দরে উদ্বোধনের সময় ‘কাং কন’ আংশিক ডুবে যাওয়ার ঘটনায় কিম একে ‘অপরাধমূলক অবহেলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। পরবর্তীতে রাজিন বন্দরে মেরামতের পর জাহাজটিকে পুনরায় নৌবহরে যুক্ত করা হয়। এবারের পরিদর্শনের সময় কিমের সঙ্গে তার কন্যা জু আয়ে উপস্থিত ছিলেন বলেও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ছবিতে দেখা গেছে।
পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধির ডাক দেওয়ার পাশাপাশি কিম জং উন জানিয়েছেন, পারমাণবিক হামলা প্রতিরোধে আকাশ, স্থল ও সমুদ্র—সবক্ষেত্রেই সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা পিয়ংইয়ংয়ের জন্য জরুরি। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশন’-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হং মিন রয়টার্সকে জানান, উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে ১০ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার তৈরির পরিকল্পনা এই প্রথম প্রকাশ করা হলো। মূলত মিত্র চীনের প্রেসিডেন্টের কাছে নিজেদের সামরিক শক্তির অজেয় প্রতিচ্ছবি তুলে ধরতেই কিম এমন উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা সামনে এনেছেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী ৮ থেকে ৯ জুন পিয়ংইয়ং সফর করবেন। দীর্ঘ সাত বছর পর এটি তার দ্বিতীয় সফর। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার প্রেক্ষাপটে শি জিনপিং তার একমাত্র আনুষ্ঠানিক মিত্রদেশকে আবারও চীনের বলয়ে ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। কিম জং উনের এই সামরিক প্রদর্শনী চীনের কাছে তার দরকষাকষির সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি কৌশল হিসেবেও দেখছেন অনেকে।