ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা—আনরওয়ার (ইউএনআরডব্লিউএ) তহবিলে ১০ কোটি ডলারের ঘাটতি পূরণে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মঙ্গলবার এক দাতাগোষ্ঠীর সম্মেলনে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই বিশাল আর্থিক সংকটের পাশাপাশি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে লাখ লাখ শরণার্থীর জীবন ও নিরাপত্তা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
গুতেরেস ক্ষোভের সাথে জানান, আনরওয়াকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত অপপ্রচার, কুৎসা রটনা এবং কূটনৈতিক বাধা সৃষ্টির মতো ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। তিনি এই সংস্থাকে অস্থিরতা নিরসনে একটি স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব কার্যক্রম শুধুমাত্র সংস্থার কর্মীদের ঝুঁকির মুখেই ফেলছে না, বরং সংস্থাটির স্বাভাবিক কার্যক্রমকেও অচল করে দিচ্ছে।
গাজা উপত্যকার ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং লেবাননে চলমান হামলার প্রসঙ্গ টেনে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, মানবিক সংকটের এই মুহূর্তে সংস্থাটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়া মানেই পরিস্থিতি সহনশীলতার শেষ সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি বর্তমানে গাজা, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম, লেবানন, জর্ডান এবং সিরিয়ায় প্রায় ২৬ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থীকে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আশ্রয়সহ নানা মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক অর্থায়ন স্থগিতের বিষয়টি আনরওয়ার জন্য বড় আঘাত হয়ে এসেছে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনা অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদন্তে মাত্র নয়জন কর্মীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে সামান্য ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বাকিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। অথচ এই অস্পষ্ট অভিযোগের জের ধরে আন্তর্জাতিক অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংস্থাটি আজ এক নজিরবিহীন সংকটের কবলে।
সম্মেলনে তুরস্কের স্থায়ী প্রতিনিধি আহমেত ইলদিজ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতেই পরিকল্পিতভাবে আনরওয়ার কর্মীদের ওপর হামলা এবং অবকাঠামো ধ্বংস করা হচ্ছে। মহাসচিব জানান, ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৯০ জন আনরওয়া কর্মী নিহত হয়েছেন, যা সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালনায় এক মর্মান্তিক প্রতিবন্ধকতা।
গুতেরেস পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আশু রাজনৈতিক ও আর্থিক সমর্থন ছাড়া এই সংস্থার পক্ষে টিকে থাকা অসম্ভব। সংস্থাটি তার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে ইতোমধ্যে ব্যাপক সংস্কার ও নীতিগত পরিবর্তন এনেছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিচ জানিয়েছেন, সম্মেলনে প্রাপ্ত প্রতিশ্রুতি ও অনুদানের চূড়ান্ত হিসাব বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।